(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Sunday, February 17, 2013

সূর্যনেল্লিকাণ্ডে পুনর্তদন্ত, কুরিয়ানের অপসারণ চাইলো সি পি আই (এম)


সূর্যনেল্লিকাণ্ডে পুনর্তদন্ত, কুরিয়ানের অপসারণ চাইলো সি পি আই (এম)

নিজস্ব প্রতিনিধি: নয়াদিল্লি, ১৭ই ফেব্রুয়ারি — সূর্যনেল্লি দলবেঁধে ধর্ষণকাণ্ডের পুনর্তদন্তের দাবি জানানোর পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান পদ থেকে পি জে কুরিয়ানের অপসারণের দাবি জানালো সি পি আই (এম)। রবিবার সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরো এক বিবৃতিতে স্পষ্টই বলেছে, ‘‘পুনর্তদন্ত অত্যন্ত জরুরী এবং অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান পদ থেকে পি জে কুরিয়ানকে সরিয়ে দেওয়া উচিত।’’ বলা হয়েছে, ঐ ঘটনার ‘নতুন তথ্য’ ভেসে উঠছে। পলিট ব্যুরো বলেছে, কেরালা হাইকোর্ট ঐ মামলায় ৩৫জনকে বেকসুর মুক্তি দিলেও সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি ফের খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে। নজর করার মতো বিষয় হলো, কেরালা হাইকোর্টের ত্রুটিপূর্ণ রায়ের জন্য সুবিধা পেয়ে যান কুরিয়ান। অন্যতম অভিযুক্ত হিসাবে তাঁর পিটিশন গ্রহণই করেনি হাইকোর্ট এবং পরে ২০০৭সালে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু এখন ঐ মামলার নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে।

পলিট ব্যুরোর অভিযোগ, কুরিয়ানের বিরুদ্ধে পুনর্তদন্তের নির্দেশ না দিয়ে দ্বিচারিতা করছে কেরালার ইউ ডি এফ সরকার। অথচ সম্প্রতি এক দশক আগের দুটি খুনের মামলার পুনর্তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সরকার, যার বিচারবিভাগী প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্তও হয়ে গিয়েছিল। আবার আর একটি মামলা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। সি পি আই (এম)-র দাবি, কংগ্রেস নেতৃত্ব গোটা বিষয়টি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করুক। বিষয়টি মোটেই দলীয় রাজনীতির স্বার্থে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। মহিলাদের উপর যৌন হেনস্তার ঘটনা বেড়ে চলায় ক্ষোভ বাড়ছে মানুষের মধ্যে এবং গোটা দেশ এনিয়ে উদ্বিগ্ন। মহিলাদের উপর যৌন হেনস্তা প্রতিরোধে আইন প্রণয়ন নিয়ে আলোচনা শুরু করা উচিত সংসদে। এমন এক মুহূর্তে যখন কুরিয়ানের বিরুদ্ধে ঐ ধরনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এবং নতুন তথ্যও জানা যাচ্ছে, তখন তাঁকে রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান পদে রেখে দেওয়া ঠিক হচ্ছে কিনা, সেই প্রশ্ন তুলেছে পলিট ব্যুরো। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইস্তফা দেওয়ার বিষয়টি তাঁরও দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আর তিনি যদি নিজের থেকে সরে না যান, তাহলে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া উচিত।

এদিকে, সি পি আই (এম) সাংসদ টি এন সীমা এদিন তিরুবনন্তপুরমে কুরিয়ানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আরজি জানিয়েছেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হামিদ আনসারিকে। এক চিঠিতে তিনি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উল্লেখ করে বলেছেন, একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন অত্যাচারের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ আঁকড়ে থাকেন? এর ফলে দেশের সংসদেরও মাথা নিচু হয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের জানুয়ারিতে ইদ্দুকি জেলায় ১৭ বছরের কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণ করে এক বেসরকারী বাসের কন্ডাক্টর। পরে ৪৫ দিন ধরে ঐ কিশোরীকে ৪২জন ধর্ষণ করে। কিশোরী অভিযোগ করেন, কুমালি অতিথি নিবাসে ধর্ষণকারীদের মধ্যে কুরিয়ানও তাকে ধর্ষণ করেছিলেন। এছাড়াও জেলা কংগ্রেস সভাপতি জ্যাকব স্টিফেন, কেরালা কংগ্রেস নেতা হোসে নেদুত্থাকিডি ও ধর্ষণ করেছিল। ২০০০ সালের ২০শে জানুয়ারি হাইকোর্ট ৩৫জনকে মুক্তি দেয়। প্রমাণের আগে ছাড় পেয়ে যান তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কুরিয়ান। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট মামলার শুনানি চালানোয় রাজি হয়। এক মাসের আগেই সেই আবেদনের উপর রায় দিয়ে কোর্ট বলেছে কেরালা হাইকোর্ট ফের খতিয়ে দেখুক মামলাটি। অভিযুক্তদের বেকসুর মুক্তি দেওয়ার বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল কেরালার রাজ্য সরকার। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই এদিন রায় দিলো সুপ্রিম কোর্ট। ২০০০সালে বিশেষ আদালত ৩৫জনকে দোষী সাব্যস্ত করলেও হাইকোর্ট মুক্তি দিয়েছিল ৩৫জনকে। সেই সময় অবশ্য হাইকোর্ট মাত্র একজনকে যৌন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত দায়ে দোষী ঠাওরেছিল। তার পাঁচ বছরের জেল এবং ৫০হাজার টাকা জরিমানা হয়েছিল। 

সম্প্রতি এই ধর্ষণকাণ্ডে ধরা পড়েছেন আইনজীবী ধর্মরাজন। তিনি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জানিয়ে দেন যে, সেই সময় মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছিল কুরিয়ানও। এরপরেই মামলার নতুন মোড় নেয়, ধর্ষণের ঘটনায় কুরিয়ানের জড়িত থাকার অভিযোগ আরও জোরালো হয়।


No comments:

Post a Comment