(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Tuesday, February 19, 2013

চ্যালেঞ্জ নিয়েই স্তব্ধ হবে রাজ্য



চ্যালেঞ্জ নিয়েই স্তব্ধ হবে রাজ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৯শে ফেব্রুয়ারি— গণক্ষোভের মুখে দিল্লির সরকার। রাত পোহালেই ধাক্কা দিতে প্রস্তুত গোটা দেশের সঙ্গে এরাজ্যেরও মেহনতী মানুষ।

আর একটা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গেও ৪৮ঘণ্টার ধর্মঘট। চ্যালেঞ্জ শ্রমিকশ্রেণীর। ফের গোটা রাজ্য প্রশাসনকেই শামিল করা হচ্ছে ধর্মঘট রুখতে। কিন্তু পালটা চ্যালেঞ্জ শ্রমজীবী মানুষের। আরও সর্বাত্মক চেহারায় ধর্মঘট সংগঠিত করেই জবাব দেবেন এরাজ্যের শ্রমিক-কর্মচারীরা। মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি জানিয়েছে, ধর্মঘটের প্রস্তুতি চলাকালীনই ফের বাড়ানো হয়েছে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম। শ্রমিকশ্রেণীর দাবিগুলিকে উপেক্ষা করেই কয়লা শিল্পসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রে লাগামছাড়া বেসরকারীকরণ চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্র। তাই ধর্মঘটের পরিপ্রেক্ষিত, প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে বই কমেনি।

এদিকে ফের ধর্মঘটের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রের সরকার এবং তাদের হয়ে বেশকিছু বুর্জোয়া প্রচারমাধ্যম। দাবি তুলতে শুরু করেছে দু’দিনের এই ধর্মঘটে নাকি গোটা দেশে ১৫হাজার কোটি টাকা লোকসান হবে। জবাবে এদিন শ্যামল চক্রবর্তী বলেছেন, কোন্‌ মুখে এই লোকসনের যুক্তি তোলে মনমোহন সিংয়ের সরকার? এই বক্তব্যকে নস্যাৎ করেই সি আই টি ইউ রাজ্য সভাপতি শ্যামল চক্রবর্তী বলেছেন, দিল্লির সরকার আগেই দেশের কর্পোরেটদের কর ছুট দিয়েছে সাড়ে ৫লক্ষ কোটি টাকা। আর বেইল আউট প্যাকেজে কর্পোরেটদের জন্য আরও ১লক্ষ ৮৬হাজার কোটি টাকা তুলে দেওয়া দিয়েছে। অর্থাৎ একদিনে ধর্মঘটে যা ক্ষতি তার ৪০গুণ ক্ষতি আগেই করে দিয়েছে মনমোহনের সরকার। তাঁর পালটা প্রশ্ন, দ্বিতীয় ইউ পি এ সরকারের মেয়াদে সরকারের মন্ত্রী-আমলারা যে বিপুল পরিমাণ আর্থিক কেলেঙ্কারি করেছে তাতে ক্ষয়ক্ষতি হয়নি দেশের সম্পদের?

এদিন এক যৌথ বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, আগামী ২০-২১শে’র ধর্মঘটের আওতা থেকে বাদ থাকছে হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধের দোকান, ডাক্তারের পরিষেবা, দমকল, জল পরিশোধন ও সরবরাহ, দুগ্ধ সরবরাহ, জঞ্জাল সাফাই, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সংবহন ও বণ্টন সংক্রান্ত জরুরী পরিষেবা, গ্যাস উৎপাদন ও বণ্টন, শ্মশান, কবরখানা, সংবাদপত্র ও সংবাদমাধ্যম, আবাসিক হোটেল, বিয়েবাড়ি সম্পর্কিত যানবাহন ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান।

এছাড়া আগামী ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে যথাযথ শ্রদ্ধার সঙ্গে রাজ্যের সর্বত্র পালন করার স্বার্থে ধর্মঘট থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে পরিবহন ক্ষেত্রকে। ঐদিন রাজ্যের সর্বত্র যাত্রী পরিবহনকে ধর্মঘটের আওতা থেকে বাদ রাখা হয়েছে। এছাড়াও রাজ্যের তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র মুর্শিদাবাদের রেজিনগর, মালদহের ইংরেজবাজার এবং বীরভূমের নলহাটি উপনির্বাচনের কারণে ২০শে ফেব্রুয়ারি ঐ তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র এলাকাকে ধর্মঘটের আওতার বাইরে থাকবে। এবং আগামী ২১শে ফেব্রুয়ারি মুর্শিদাবাদ, মালদহ, বীরভূম তিনটি জেলাই বাদ থাকবে ধর্মঘটের আওতার থেকে। ৪৮ঘণ্টাব্যাপী ধর্মঘট শুরুর প্রাক্কালে মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে ধর্মঘট সম্পর্কে এই নির্দেশিকা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি। সি আই টি ইউ, আই এন টি ইউ সি, এ আই টি ইউ সি, বি এম এস, এইচ এম এস, ইউ টি ইউ সি, টি ইউ সি সি এবং মার্কেন্টাইল ফেডারেশনের তরফে এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা হয়েছে।

কার্যত শেষমুহূর্তে বিপাকে পড়েই আলোচনার ডাক। কিন্তু শ্রমিকস্বার্থের দাবি মেটানোর প্রশ্নে বিন্দুমাত্র আন্তরিকতা নেই। তাই নিষ্ফলা বৈঠকশেষে টানা ৪৮ঘণ্টাব্যাপী ধর্মঘটের পথেই অনড় থাকলো গোটা দেশের শ্রমিকশ্রেণী। রবিবারই সংবাদমাধ্যম মারফত ধর্মঘট তুলে নেওয়ার আবেদন রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রিসভার চার সদস্যকে আলোচনার জন্য দায়িত্ব দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রবিবার সারাদিন সরাসরি ট্রেড ইউনিয়নগুলির সঙ্গে আলোচনার বার্তা দেয়নি কেন্দ্রের সরকার। এদিকে সোমবারও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় কোন সমাধান সূত্র বের হয়নি। সি আই টি ইউ-র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তপন সেন জানিয়েছেন, দেশের শ্রমজীবী মানুষের দশ দফা দাবির প্রশ্নে বিন্দুমাত্র সংবেদনশীল নয় দ্বিতীয় ইউ পি এ সরকার।

রাজ্যে ধর্মঘটের বিরোধিতায় প্রশাসনের নির্লজ্জ কোমর বেঁধে নেমে পড়ার তীব্র সমালোচনা করেছে এদিন কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি। এদিন এক যৌথ বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির এরাজ্যের নেতৃত্ব জানিয়েছেন, ১৯শে ফেব্রুয়ারি রাজ্যের নানা জায়গায় পুলিস মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে এই বলে যে মহামান্য হাইকোর্ট নাকি ধর্মঘটকে বেআইনী ঘোষণা করেছে। কিন্তু রাজ্য প্রশাসনে থাকা ব্যাক্তিদের জানা উচিত মহামান্য আদালত ধর্মঘটে বলপ্রয়োগ করতে নিষেধ করেছে। এটা সরকার ও ধর্মঘটী শ্রমিক উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া উচিত। যা কার্যত মান্য করছে না রাজ্য সরকারই। সরাসরি রাজ্যের নানা জায়গায় ধর্মঘটের বিরোধিতায় চাপা হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২০তারিখের ধর্মঘটকে সর্বাত্মক করতে রাজ্যের সমস্ত সরকারী সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমস্ত স্তরের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীরা শামিল হবেন ধর্মঘটে। এর বাইরে আগামী ২১শে ফেব্রুয়ারি সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাতৃভাষা দিবস পালনের কর্মসূচীতে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা শামিল থাকবেন এবং ঐদিন ধর্মঘটের প্রতি নৈতিক সমর্থন জানাবেন। এদিকে অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ১০টি সংগঠনের যৌথ সংগ্রাম কমিটি মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ২০-২১শে’র ধর্মঘটের সপক্ষে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এই যৌথ সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মধুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, যে দাবিগুলি নিয়ে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি এই ধর্মঘটের লড়াইতে শামিল, সেই দাবিগুলি নিয়েই তাঁরা রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে যাচ্ছেন।

No comments:

Post a Comment