(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Sunday, February 17, 2013

বোমা বাঁধতে গিয়ে মৃতকে সম্মান জানালেন হাকিম, অন্য মন্ত্রীরাও


বোমা বাঁধতে গিয়ে মৃতকে সম্মান
জানালেন হাকিম, অন্য মন্ত্রীরাও

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৭ই ফেব্রুয়ারি — দুষ্কৃতীদের সসম্মানে মদত দেওয়া চলবে। সেই সূত্রেই ফিরহাদ ওরফে ববি হাকিমকে সামনে রেখেই দলের বেপরোয়া কর্মীদের উত্তেজিত, একত্রিত রাখার কাজও চলবে। রবিবার স্পষ্ট এই দুটি বার্তা রাজ্যবাসীর উদ্দেশে পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের স্বরাষ্ট্র (পুলিস) মন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। 

এই পরিস্থিতিতে তদন্ত কী করে হবে? যেখানে আবার অভিযুক্ত শাসক দলেরই কর্মীরা? সুভানকে জেরা করে পাওয়া তথ্য কি আদৌ আদালত পর্যন্ত পৌঁছোতে পারবে ? বা চার্জশিটের পাতায়? এই নিয়ে ইতোমধ্যেই সংশয় দেখা দিয়েছে সি আই ডি-র মধ্যে। সঙ্গত কারণও আছে। 

অন্তত রবিবার গোয়েন্দাদের সংশয়টি জোরালো হয়েছে। কী করে বলা যাচ্ছে এই কথা? তার উত্তর খুঁজতে যেতে হচ্ছে সেই গার্ডেনরিচেই। কলকাতা পুলিস কেস দায়ের করেছে সেই গার্ডেনরিচ থানাতেই। গত মঙ্গলবার করা সেই কেসই জানাচ্ছে, বোমা বানাচ্ছিল তৃণমূল কর্মী অভিজিৎ শীল। বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণেই আহত হয়েছিল তিনজন — সোমবার রাত দেড়টা নাগাদ। সেই আহতদের অন্যতম, তৃণমূল কাউন্সিলর রঞ্জিৎ শীলের ছেলে অভিজিৎ শীলের মৃত্যু হয়েছে শনিবার। তার দেহের ৬৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল, বোমার স্প্লি্‌ন্টারে ছিন্নভিন্ন হয়েছিল শরীরের বিভিন্ন অংশ। সেই বিস্ফোরণের ঘটনাতেই পরবর্তী দুঃখজনক ঘটনার সূত্রপাত। ওই বিস্ফোরণের পর এলাকায় উত্তেজনা ছিল। একতরফা নমিনেশান পেপার তুলতে এবং জমা দিতে তৃণমূল কর্মীদের সাহায্য করতে মোতায়েন করা হয়েছিল নিরস্ত্র পুলিস কর্মীদের। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন স্পেশাল ব্রাঞ্চের কর্মী তাপস চৌধুরী। তৃণমূল নেতা মহম্মদ ইকবালের ঘনিষ্ঠ দলীয় কর্মী শেখ সুভানের গুলি তাপস চৌধুরীর শরীর ফুঁড়ে দেয়। মৃত্যু হয় তাঁর। 

ফলে একটি বহুতলে বোমা বাঁধার সময় গভীর রাতে বিস্ফোরণের ঘটনাটিই গার্ডেনরিচ-কাণ্ডের ভূমিকা। পুলিস সেই বিস্ফোরণের ঘটনার কেস করে গার্ডেনরিচ থানায়। কলকাতা পুলিসের ডি সি(বন্দর) ডি সোলেমান নিসাকুমার জানিয়েছেন, সেই কেসে ইন্ডিয়ান এক্সপ্লোসিভ অ্যাক্ট, ১৯৭৮-র ৩ এবং ৪ নং ধারায় অভিযোগ রুজু করেছে পুলিস। দুটি ধারার মোদ্দা কথা — মৃত্যুর আগে অভিজিৎ শীল দুষ্কৃতীমূলক কাজ করছিল। বোমা বানাচ্ছিল বা বহন করছিল। তবু সেই ‘বোমা প্রস্তুতকারক বা বাহক’ অভিজিতের মরদেহে রবিবার মালা দিতে ন্যূনতম দ্বিধা করেননি তৃণমূলের তাবড় নেতা-মন্ত্রী। আর রাজ্যের সেই গর্বিত ব্যক্তিদের তালিকায় তাৎপর্যপূর্ণ নাম হলো ফিরহাদ ওরফে ববি হাকিম। তিনি ছাড়াও তৃণমূলের সাংসদ সুব্রত বক্সি, রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী মদন মিত্র, স্টেট ট্রান্সপোর্ট অথরিটির চেয়ারম্যান বৈশ্বানর চ্যাটার্জি প্রমুখও এদিন ‘শ্রদ্ধা’ জানিয়েছেন অভিজিৎ শীলকে। অথচ নিহত পুলিসকর্মী তাপস চৌধুরীর বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া কেউ যাননি। 

এই পরিস্থিতিতেই প্রশ্ন উঠেছে, এমন মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রীরা থাকলে কী আদৌ নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া সম্ভব? রবিবার সি আই ডি-র এক অফিসার জানিয়েছেন,‘‘সুভানকে জেরা করে যা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা কি আমরা বিচারের সময় পেশ করতে পারবো?’’ প্রসঙ্গত, সুভান গোয়েন্দাদের জানিয়েছে, মঙ্গলবারের জন্য বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই ‘পরিকল্পনা’ হয়েছিল। বন্দুক, বোমা রেডি করা হয়েছিল। আর এই পুরো পরিকল্পনাটির মাথা ছিলেন মহম্মদ ইকবাল। ইকবালের ছেলে অনিল পুরো বিষয়টি জানতো। সি আই ডি-র কাছে ইতোমধ্যেই শেখ সুভান জানিয়েছে কোথায় বোমা মজুত ছিল। সে বন্দুক কার কাছ থেকে পেয়েছে। ইকবাল কোথায় থাকতে পারে এই বিষয়ে অবশ্য সুভান বিশেষ কোন আলোকপাত করতে পারেনি। এদিনই কলকাতা পুলিসের কাছ থেকে সি আই ডি-র অফিসাররা জেনেছেন, ঘটনার পরে ইকবালের খোঁজে ছ’বার তারা তল্লাশি করেছেন। সেই কথা নিজেদের কেস ডায়েরিতেও উল্লেখ করে দিয়েছে তারা। যা, পুলিসের একাংশের মতে ইকবালকে সহজে পার পেতে দেবে না। ইকবালকে কলকাতা পুলিস ‘পলাতক’ দেখানোয় ইকবালের গ্রেপ্তারকে অপরিহার্য করে তুলেছে। 

কিন্তু পুলিস যখন এমন দ্বিধা দ্বন্দ্বে, তখন তৃণমূল নেত্রী পুরোপুরি ফিরহাদ হাকিমের পাশেই দাঁড়িয়েছেন। এমনকি এদিন সকালে ‘দিদি’-র সঙ্গে ফোনে কথা বলেই কাঁটাপুকুর মর্গ এবং শ্মশানে গেছিলেন পৌরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। বার্তা স্পষ্ট — প্রথমত, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির পূর্ণ মদত আছে দলের দুষ্কৃতীদের প্রতি। দ্বিতীয়ত, পুলিস খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ইকবালের পক্ষে নির্লজ্জ ওকালতি করা ববি হাকিমের কোন ডানাই ছাঁটা হয়নি। তিনি বহাল তবিয়তেই আছেন, আগের দুঃসাহস নিয়েই। তা আরো স্পষ্ট আর একটি সিদ্ধান্তে। রবিবারই মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নলহাটি কেন্দ্রে তৃণমূলের হয়ে প্রচারে যাবেন আর কেউ নন — সেই বিতর্কিত, দুষ্কৃতীদের পক্ষে দাঁড়ানোর ঘটনায় অভিযুক্ত ফিরহাদ হাকিম।


No comments:

Post a Comment