(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Sunday, February 17, 2013

রিপোর্ট কেন্দ্রীয় সমীক্ষার গ্রামাঞ্চলে সরকারী-বেসরকারী সব স্কুলেই বাড়ছে ‘প্রাইভেট টিউশন’ নেওয়ার ঝোঁক |



রিপোর্ট কেন্দ্রীয় সমীক্ষার গ্রামাঞ্চলে সরকারী-বেসরকারী সব স্কুলেই বাড়ছে ‘প্রাইভেট টিউশন’ নেওয়ার ঝোঁক |

ধীমান রক্ষিত

কলকাতা, ১৭ই ফেব্রুয়ারি—এরাজ্যের গ্রামাঞ্চলের ৭২শতাংশ পড়ুয়া এখন প্রাইভেট টিউশনের উপর নির্ভরশীল। বিনামূল্যে নয়, রীতিমত অর্থ খরচ করে ৭২শতাংশ স্কুল পড়ুয়া প্রাইভেট টিউশন নিয়ে থাকে। গ্রামাঞ্চলের সরকারী এবং বেসরকারী উভয় ক্ষেত্রেই স্কুল পড়ুয়াদের প্রাইভেট টিউশনের প্রবণতা বেড়েছে। কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের করা সমীক্ষা রিপোর্টে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য। 

শুধু গত বছরই নয়, তৃণমূল জমানার দুই শিক্ষাবর্ষেই বেড়েছে গ্রামাঞ্চলে পড়ুয়াদের প্রাইভেট টিউশনের উপর নির্ভরতা। ২০০৯সাল থেকে ২০১২সাল—এই চার বছরের রাজ্যের গ্রামাঞ্চলের পড়ুয়াদের প্রাইভেট টিউশনের প্রবণতা নিয়ে সম্প্রতি এক সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর। সেই সমীক্ষার রিপোর্টে বামফ্রন্ট ও তৃণমূল জমানার সরকারী ও বেসরকারী স্কুল পড়ুয়ার প্রাইভেট টিউশন নেওয়ার ফারাক ধরা পড়েছে। সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, ২০১০ সালে যেখানে গ্রামাঞ্চলের ৭০.৮শতাংশ পড়ুয়া প্রাইভেট টিউশন নিতো, সেখানে ২০১২সালে ৭২শতাংশ পড়ুয়া প্রাইভেট টিউশন নিচ্ছে। সরকারী ও বেসরকারী উভয় ক্ষেত্রেই গ্রামাঞ্চলের পড়ুয়াদের পয়সা দিয়ে প্রাইভেট টিউশন নেওয়ার সংখ্যা বেড়েছে বলে সর্বভারতীয় ‘অ্যাসার’র রিপোর্টে প্রকাশ।

ঐ রিপোর্টে বলছে, সরকারী স্কুলগুলিতে ২০১০সালে যেখানে ৭০.৮শতাংশ পড়ুয়া প্রাইভেট টিউশন নিতো সেখানে ২০১২সালে প্রাইভেট টিউশন নেয় ৭২শতাংশ। ২০১১সালে সরকারী স্কুলের ছাত্রদের ৭২.৯শতাংশের এই নির্ভরশীলতা ছিল। গ্রামাঞ্চলের বেসরকারী স্কুলগুলিতেও মারাত্মক হারে প্রাইভেট টিউশনের প্রবণতা বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, বেসরকারী স্কুলগুলিতে ২০১১সালে যেখানে ৬৩.৯শতাংশ পড়ুয়া প্রাইভেট টিউশন নিতো সেখানে ২০১২সালে তা বেড়ে হয়েছে ৬৯.১শতাংশে। ২০০৯সালে ছিল ৭৩.২শতাংশ, ২০১০সালে তা কমে হয়েছে ৬৬.১শতাংশ। সমীক্ষায় স্পষ্ট, গত দুই বছরে গ্রামাঞ্চলের স্কুল পড়ুয়াদের প্রাইভেট টিউশনের উপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। 

দেশের স্কুলগুলির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সমীক্ষা চালায় কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক। স্কুলগুলির পঠনপাঠনের অবস্থা, ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তির হার, ক্লাসঘরের অবস্থা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে এই সমীক্ষা হয়। সমীক্ষার নামকরণ করা হয় ‘অ্যানুয়াল স্ট্যাটাস অব এডুকেশন রিপোর্ট’, ২০১২বা ‘অ্যাসার’। অন্যান্য রাজ্যের স্কুলগুলির অবস্থা যেমন এই রিপোর্টে উঠে এসেছ

পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলির অবস্থাও তুলে ধরা হয়েছে এই রিপোর্টে। বর্তমান সরকারের বেশ কয়েকটি ভুল পদক্ষেপ স্কুল পড়ুয়াদের প্রাইভেট টিউশন নেওয়ার প্রবণতা বাড়াচ্ছে বলে মত শিক্ষক মহলের।

তাঁদের বক্তব্য, ২০১১সালে বর্তমান সরকার ‘নো ডিটেনশন’ চালু করে পাস-ফেল প্রথা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত কোনো পড়ুয়াকে বছর শেষে আটকে রাখা হবে না বলে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূলের সরকার। ‘ফেল’ প্রথাটি উঠে যাওয়ার ফলে অভিভাবকদের মধ্যে এক ধরনের ভয় কাজ করেছে। স্কুলগুলিতে যখন ‘ফেল’ বিষয়টি নেই তখন পরীক্ষার গুরুত্ব সন্তানদের মধ্যে হারিয়ে যাবে বলে মনে করেছেন অভিভাবকরা। অন্যদিকে স্কুলগুলি থেকে ইউনিট টেস্ট তুলে দিয়েছে সরকার। ইউনিট টেস্টের মধ্যে দিয়ে বছরভর পড়ুয়াদের পঠনপাঠনের মানোন্নয়নে যে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা স্কুলগুলিতে চালু ছিল, তা তুলে দেওয়ার ফলে সন্তানরা কী শিখছে তা বোঝার উপায় থাকছে না অভিভাবকদের। কারণ, ইউনিট টেস্টের ফল আগে দেখতে পেতেন অভিভাবকরা। এই ব্যবস্থা উঠে যাওয়ায় সন্তানরা কী শিখছে, কতটা শিখছে, কোথায় ঘাটতি রয়েছে তা জানার উপায় থাকছে না অভিভাবকদের। স্কুল থেকে সন্তানদের পঠনপাঠনের দুর্বলতা পূরণ করার বাসনা নিয়ে হয়তো অভিভাবকরা প্রাইভেট টিউশনের উপর ভরসা করছেন। এছাড়া গত দু’বছরে ক্লাসে শিক্ষকদের পড়ানোর ক্ষেত্রে এক ধরনের অনীহা দেখা গেছে। পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন, একের পর এক সরকারী নির্দেশিকা অনুসরণ করতে গিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে হয়তো গা-ছাড়া ভাব দেখা দিয়েছে। পড়ুয়াদের মধ্যে যে কোনো বিষয় আত্মস্থ করানোর ক্ষেত্রে স্কুল শিক্ষকদের দুর্বলতা প্রাইভেট টিউশনকে প্রাধান্য দিয়েছে বলে মত শিক্ষক মহলের।

No comments:

Post a Comment