(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Sunday, February 17, 2013

অবশেষে আবেদন প্রধানমন্ত্রীর ধর্মঘটের প্রস্তুতি বহাল পুরোদমেই


অবশেষে আবেদন প্রধানমন্ত্রীর ধর্মঘটের প্রস্তুতি বহাল পুরোদমেই

নিজস্ব প্রতিনিধি

নয়াদিল্লি, ১৭ই ফেব্রুয়ারি— সমর্থন ব্যাপক। ঐক্যবদ্ধ সব ট্রেড ইউনিয়ন। পাঁচমাসের নীরবতার পর প্রতিঘাতের মাত্রা টলিয়ে দিলো প্রধানমন্ত্রীকেও। রবিবার বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃত্বের কাছে ২০-২১শে দু’দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহারের আবেদন জানালেন মনমোহন সিং। 

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, যে দাবিগুলির ভিত্তিতে ধর্মঘট তার কয়েকটির ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। অন্যান্যগুলিও বিভিন্ন পর্যায়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সি আই টি ইউ’র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তপন সেনের সাফ প্রতিক্রিয়া, সরকারের তরফে সরাসরি কোনো আবেদন রবিবার মেলেনি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর আবেদন জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যম মারফত। তাঁর আহ্বান, এই মুহূর্তে দু’দিনের সাধারণ ধর্মঘটের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার প্রশ্নই নেই। ধর্মঘটের প্রস্তুতি বজায় রাখতে হবে পুরোদমে। 

শনিবারই কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মল্লিকার্জুন খারগের সঙ্গে বৈঠক হয় সব ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃত্বের। সেই বৈঠকে খারগে সরকারের তরফে স্পষ্ট কোনো অবস্থানই জানাননি। তারপরই সাংবাদিক বৈঠকে আই এন টি ইউ সি সভাপতি এবং প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সঞ্জীব রেড্ডি জানিয়ে দেন শ্রমজীবী মানুষের সমস্যা বিবেচনায় সরকার আদৌ আন্তরিক নয়। তিনি বলেন, দু’দিনের ধর্মঘট দেশের মানুষের উপর চাপিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারই। তার দায়ও নিতে হবে কেন্দ্রকেই। তীব্র শ্লেষ জানিয়ে রেড্ডি বলেছেন, শ্রমিকদের দাবিদাওয়া সম্পর্কে এই সরকার চূড়ান্ত অমনোযোগী। এই প্রশ্নে কোনো সংবেদশীলতাই দেখাচ্ছে না কেন্দ্র। 

খারগে বৈঠকের পর এদিন প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদেরও আলোচনায় বসার আবেদন জানিয়েছেন। সংবাদসংস্থা জানাচ্ছে, খারগে ছাড়াও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম এবং কৃষিমন্ত্রী শারদ পাওয়ারকে আলোচনায় বসার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। রবিবারের আবেদনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ধর্মঘটের কারণে অর্থনীতির বিপুল ক্ষতি হবে যা এড়ানো সম্ভব। পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়বেন। ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ অবশ্য একাধিক ক্ষেত্রে পরিষ্কার জানিয়েছেন, জনতাকে সমস্যায় ফেলার অভিপ্রায় নিয়ে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়নি। দিনের পর দিন জনতারই জীবন-মরণ সমস্যায় নিরুদ্বিগ্ন থাকার নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে দু’দিনের ধর্মঘট ডাকতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। 

তপন সেনের প্রতিক্রিয়া, সরাসরি ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃত্বকে না জানিয়ে সংবাদমাধ্যম মারফত আবেদন জানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে তাঁর আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। গত সেপ্টেম্বরের ৪তারিখ ঐক্যবদ্ধ কনভেনশন থেকে দু’দিনের ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ মাস চুপ থেকে ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রীর এই তৎপরতায় সদিচ্ছা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। সেনের মন্তব্য, এতদিন বাদে প্রধানমন্ত্রী বুঝলেন ধর্মঘটের কী প্রভাব পড়বে! সেন জানিয়েছেন, সোমবার সকালে যদি সরকারের তরফে আলোচনায় বসার বার্তা পাঠানো হয় তবে সব ট্রেড ইউনিয়ন যৌথভাবেই বৈঠকে যোগ দেবে। কিন্তু, সরকারকে নির্দিষ্টভাবে জানাতে হবে কোন দাবির ভিত্তিতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। দাবি মানা হচ্ছে কিনা। খারগের সঙ্গে বৈঠকে সরকার কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো বক্তব্যই জানায়নি। সরকার কী মনোভাব দেখায় তার ভিত্তিতে ট্রেড ইউনিয়নগুলি যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। 

যে দশ দফা দাবির ভিত্তিতে দেশজুড়ে জোট বেঁধেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক মতে বিশ্বাসী অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ তা বিশদেই খাগরেকে জানিয়েছিলেন ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থানের উদ্যোগ, শ্রমআইন লঙ্ঘনে কঠোর পদক্ষেপ, সংগঠিত এবং অসংগঠিত শ্রমিক-কর্মচারীদের সামাজিক সুরক্ষায় জাতীয় তহবিল গঠন, রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রের বিলগ্নীকরণ, স্থায়ীপদে ঠিকা প্রথায় শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ, মাসিক দশ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা, কেন্দ্রীয় সরকারকে পেনশনের দায়িত্ব নিতে বাধ্য থাকা, বেতন বা বোনাস অথবা প্রভিডেন্ট ফান্ডে চাপিয়ে দেওয়া সীমারেখা মোছা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠনের কনভেনশন অনুযায়ী ৪৫দিনের মধ্যে ট্রেড ইউনিয়নের বাধ্যতামূলক নথিভুক্তিকরণ। এক কথায়, মুনাফার একতরফা অভিযান প্রতিরোধ করে শ্রমজীবী মানুষ যাতে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারেন তার পক্ষে নির্দিষ্ট পদক্ষেপের দাবি কেন্দ্রকে জানিয়ে ২০-২১শে ফেব্রুয়ারি ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। 

রবিবার বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের নেতাদের অনেকেই দিল্লিতে ছিলেন না। সঞ্জীব রেড্ডিই ছিলেন হায়দরাবাদে। ধর্মঘটের চূড়ান্ত প্রস্তুতিপর্বে সর্বত্রই সাজো সাজো রব। নয়া উদারনীতির পর্বে প্রথম দিকে অংশ না নিলেও ক্রমে কংগ্রেস এবং বি জে পি’র সমর্থক দুই ট্রেড ইউনিয়ন আই এন টি ইউ সি এবং বি এম এস-কে ধর্মঘটের ডাকে শামিল হতে হয়েছে বামপন্থীদের সঙ্গে। এমনকি বিভিন্ন রাজ্যভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়নও সমর্থন জানিয়েছে। যদিও, গোটা দেশের বিচারেই ব্যতিক্রম এই রাজ্যের তৃণমূলের ট্রেড ইউনিয়ন। এবার দু’দিনের ধর্মঘটের ডাক ঐক্যবদ্ধভাবে দেওয়া সত্ত্বেও টনক নড়েনি কেন্দ্রের। কিন্তু, ক্রমশই বেড়েছে ধর্মঘটের সমর্থনে শ্রমজীবীর সমাবেশ। ব্যাঙ্ক, বন্দর, রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা থেকে রাজ্যে রাজ্যে অসংগঠিত ক্ষেত্রের পেশায় নিয়োজিত মানুষ সমবেত হয়েছেন। এই ঐক্যবদ্ধ এবং ব্যাপক আন্দোলনের চেহারায় প্রধানমন্ত্রীকে নড়ে বসতে হয়েছে এমন মনে করার বাস্তব কারণ রয়েছে। গত কয়েকদিনে প্রভাব আঁচ করতে পেরে শ্রমমন্ত্রীকে আলোচনায় পাঠানো হয়। কিন্তু, প্রয়োজনীয় আলোচনাই হয়নি সরকারী স্তরে। তা বোঝা যায় বৈঠকে শ্রমমন্ত্রীর অস্পষ্ট অবস্থানে। ন্যূনতম মজুরি বেঁধে দেওয়ার দাবি, যা সরাসরি তাঁর মন্ত্রকেরই বিবেচ্য, তা নিয়েও স্পষ্ট বক্তব্য জানাতে পারেননি তিনি। ফলে, ধর্মঘটের অবস্থানে অনড় থেকেছেন ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃত্ব। সেই অবস্থায় এবার আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

No comments:

Post a Comment