(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Friday, March 15, 2013

AUSGRAM PANCHAYAT SAMITY


সরকারী উদাসীনতায় ভেঙে পড়েছে স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীগুলি আউশগ্রামের দুই ব্লকে বন্ধ সমস্ত সহায়তা ভাতা

রাধামাধব মণ্ডল

আউশগ্রাম, ১৪ই মার্চ — আউশগ্রামের দুই ব্লকের প্রায় ৩০০ গ্রামের সর্বত্র বন্ধ রেগা প্রকল্পের কাজ। বছরে হাতেগোনা কয়েক বার কাজ হলেও, গ্রামে গ্রামে সেই কাজের টাকা এখনও বকেয়া রয়েছে। ফলে অনেকের ঘরেই নতুন করে অভাবের আঁচ পড়েছে। আউশগ্রাম ১নং পঞ্চায়েত সমিতির বর্তমান সভাপতি সিদ্ধেশ্বর মণ্ডলের অভিযোগ, এই পঞ্চায়েত সমিতি এলাকার ৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতের গ্রামে গ্রামে বন্ধ ১০০দিনের কাজ ৭-৮ মাস ধরে। এছাড়াও সমস্ত রকমের সামাজিক সহায়তা প্রকল্পের ১৭০০জনের ভাতাও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। বন্ধ কৃষক পেনশন, আদিবাসী ভাতা, বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা দেওয়ার কাজ। অথচ কোনো কিছুই করার ক্ষমতা নেই জনপ্রতিনিধিদের। ফলে গ্রামে গ্রামে থমকে গেছে উন্নয়নের কাজ।

নাবার্ড ও বিগত রাজ্যসরকারে অর্থানুকূল্যে যৌথভাবে আউশগ্রাম ২নং পঞ্চায়েত সমিতির পরিচালনায় জঙ্গলমহল এলাকায় গড়ে তোলা জলবিভাজিকা প্রকল্পের সমস্ত কাজ গ্রামে গ্রামে ভেঙে পড়েছে। ভেঙে পড়েছে গরিবের বেঁচে থাকার জন্য কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বিগত সরকারের গড়ে তোলা জলবিভাজিকা প্রকল্পের অন্তর্গত এস এইচ জি গ্রুপগুলি। গ্রামে গ্রামে কাজহারা শ্রমিকরা পরিবার পরিজনদের নিয়ে ভবঘুরে হয়ে কাজের সন্ধানে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। থমকে আউশগ্রামের জঙ্গলমহল এলাকার বেশ কয়েক হাজার মহিলার কর্মসংস্থান। বাড়ি বাড়ি গড়ে ওঠা স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীগুলো সরকারী সাহায্য না পেয়ে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে তাদের কুটির শিল্পের কাজ। বিগত সরকারের আমলে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতী ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে বাড়ির মেয়েদের নিয়ে হাতে বোনা সেলাই, কাঁথাস্টিচ, বুটিকের মতো কুটির শিল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এস এইচ জি গ্রুপের মাধ্যমে, ব্যাঙ্ক ঋণের আওতায় এনে অনুদান দিয়ে প্রকৃত গ্রাম উন্নয়ন শুরু হয়। আজকে তার ভগ্ন দশা। নতুন সরকারের অজ্ঞতার ফলে ভালকির গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এস জি এস ওয়াই, বনসুরক্ষা কমিটির মতো নানান সামাজিক কাজের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার ধারাগুলোও নষ্ট হয়ে পড়েছে। ভালকির জঙ্গল মহল এলাকার রুক্ষ ভূমিতে নাবার্ডের জলবিভাজিকা প্রকল্পের মতো, সাহেবডাঙার হরিয়ালি প্রকল্পও টাকার অভাবে বন্ধের মুখে। ফলে গ্রামে গ্রামে থমকে জল ধরে সবজি চাষের ক্ষেত্র। ভালকির ঝুমুরি টুডু অভিযোগ করেন,‘গ্রুপগুলোকে কোনো সহযোগিতা করছে না সরকার। ফলে কাজ হচ্ছে না।’ এছাড়াও সাহেবডাঙার সুখদী সরেন বলেন, তেমন ভাবে কোনো গুরুত্ব দেয় না সরকারের লোকেরা। ব্যাঙ্কও ঋণ দিচ্ছে না, তাই তেমন করে আর কাজ করতে পারছি না। গ্রুপের মাধ্যমে আউশগ্রামের জঙ্গল মহলের ভালকি, দেবশালা, অমরপুর গ্রামপঞ্চায়েতের বিভিন্ন গ্রামে আদিবাসী মহিলাদের ঘরে ঘরে শালপাতা বোনার শিল্পও থমকে গেছে। জলবিভাজিকার উদ্যোগে ভালকিতে স্বল্প সঞ্চয়ের ব্যাঙ্কেরও লেনদেন কমায় বেহাল দশা। আউশগ্রাম ২নং পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি তুষার ঘোষ অভিযোগ করেন, বিগত বামফ্রন্ট সরকারের ধীরে ধীরে গড়ে যাওয়া গ্রাম উন্নয়নের প্রতিটি ধাপ ভেঙে ফেলছে নতুন সরকার। উন্নয়ন তো এক দিনে হয় না। তা সমাজ ও পরিবেশের মানুষকে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে হয়। এই চেতনার অভাব আছে।

No comments:

Post a Comment