(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Friday, March 15, 2013

AVIRUP SARKAR, ECONOMIST AND SUPPORTER OF MAMATA


চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা

বড় বেকায়দায় পড়ে গেছেন মুখ্যমন্ত্রীর অতি ঘনিষ্ঠ অভিরূপ সরকার। যে নিগমের তিনি চেয়ারম্যান সেই নিগমেরই ১২০ কোটি টাকা গায়েব হয়ে গেছে তাঁর অজান্তে। সাত মাস আগে একটি ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে গেলেও তার বিন্দু-বিসর্গও তিনি জানতে পারেননি। অথচ বছরের পর বছর ধরে বামফ্রন্ট সরকারের প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে চাঁচাছোলা সমালোচনা করতেন সংবাদমাধ্যমে। তাঁর বাক্যবাণ ও বাচনভঙ্গি দেখে পাঠক-শ্রোতাদের মনে হতো তিনি উচ্চমার্গের দক্ষ প্রশাসক এবং অর্থনীতি-বোদ্ধা। সেই সুবাদে তৎকালীন বিরোধী নেত্রী এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর সুনজরে পড়েছিলেন। দীর্ঘ সময় তাঁকে টিভি চ্যানেলের বিতর্কে তৃণমূলী অর্থনীতিবিদের ভূমিকায় দেখা গেছে। ক্ষমতা দখলের পর ইনাম হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে বসিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ পরিকাঠামো উন্নয়ন বিত্ত নিগমের চেয়ারম্যানের পদে। আজ সেই সংস্থাতেই এতবড় এক জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হয়ে যাবার পর তাঁর দক্ষতা নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন উঠে গেছে। চেয়ারম্যান তথা রাজ্য সরকারের পক্ষে আরও অস্বস্তির কারণ হলো ঘটনাটির সঙ্গে যেহেতু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক যুক্ত এবং জালিয়াতির পরিমাণ যেহেতু এক কোটি টাকার বেশি তাই এর তদন্তের ভার বর্তাচ্ছে সি বি আই-র ওপর। কলকাতা পুলিস বা সি আই ডি-কে দিয়ে তদন্তে প্রভাব খাটিয়ে ধামাচাপা দেওয়া সহজ হবে না। তাছাড়া নিগমটি যেহেতু অর্থমন্ত্রকের অধীন তাই দায় এড়ানোর উপায় নেই অর্থমন্ত্রীরও। এর আগে এই সরকারের আমলে গম বীজ কেলেঙ্কারি, ত্রিফলা কেলেঙ্কারি-সহ যেসব দুর্নীতিগুলি প্রকাশ্যে এসেছে সেগুলি সবই প্রায় কোনো না কোনো কাজের আড়ালে সরকারী টাকা লুট হয়েছে। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে একটা ব্যাঙ্ক থেকে অন্য একটা ব্যাঙ্কে টাকা স্থানান্তরিত করার ফাঁকে লুট হয়ে গেছে ১২০ কোটি টাকা। স্বাভাবিকভাবেই একে হালকাভাবে দেখার কোনো উপায় নেই।

১৯৯৭ সালে রাজ্যে পরিকাঠামো ক্ষেত্রের উন্নয়নে বাড়তি গতি আনতে প্রয়োজনীয় টাকার জোগান দিতে বামফ্রন্ট সরকার তৈরি করে পশ্চিমবঙ্গ পরিকাঠামো উন্নয়ন বিত্ত নিগম। নিগম বন্ডের মাধ্যমে বাজার থে‍কে ঋণ সংগ্রহ করে। তারপর সেই টাকা বেশি সুদে ঋণ দেয়। রাজ্য সেই টাকা পরিকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করে। নিগম যে সুদে বাজার থেকে টাকা তোলে রাজ্যকে ধার দেয় তার থেকে বেশি সুদে। ব্যবধানটাই নিগমের মুনাফা। পরিকাঠামো উন্নয়নে যখন রাজ্যের টাকার দরকার তখনই সাধারণত নিগম ঋণ নেয় বাজার থেকে। প্রয়োজন ছাড়া ঋণ ‍‌ নিলে টাকা পড়ে থাকবে অথচ সুদ গুনতে হবে নিগমকে। নিগমের হাতে এত টাকা পড়ে থাকার মানে হয় রাজ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে খরচ করতে পারছে না, অথবা প্রয়োজন ছাড়াই নিগম যথেচ্ছ ঋণ নিয়েছে। এটা মোটেই দক্ষ প্রশাসনের পরিচয় নয়। নিগমের বন্ড সাধারণত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিই কিনে থাকে। অর্থাৎ ব্যাঙ্ক থেকে নিগম ঋণ নেয়। এখন ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় দশ শতাংশের বেশি সুদে ঋণ নিয়ে নিগম কোন্‌ যুক্তিতে সেই টাকা বেশি সুদের আশায় ব্যাঙ্কেই ফিক্সড ডিপোজিট করছে? ব্যাঙ্ক কি কখনো যে সুদের হারে ঋণ দেয় তার থেকে বেশি হারে আমনতকারীদের সুদ দেয়? তাছাড়া দু’টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটে কি সুদের হারে বি‍শেষ তারতম্য থাকে? এমন অনেক প্রশ্ন হাজির হচ্ছে নিগমের কাজকে ঘিরে। সবচেয়ে যেটা চাঞ্চল্যকর সেটা হলো নিগম লিখিতভাবে যে অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তরের অনুরোধ করেছিল ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে, সেই অ্যাকাউন্ট আদৌ নিগমের নয়। সেটি একটি অস্তিত্বহীন বেসরকারী সংস্থা। নিগম কোথায় পেল সেই নম্বর? টাকা জমার পর যথারীতি সেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে গেছে। টাকা হয়ে গেছে বেহাত। এত অনিয়ম, এত দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কোনো ক্ষমা হতে পারে না। চেয়ারম্যান যত অজুহাতই খাড়া করার চেষ্টা করুন না কেন শেষ পর্যন্ত দায় তাঁর ওপরই বর্তায়।


No comments:

Post a Comment