(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Wednesday, March 6, 2013

আন্তর্জাতিকের সুরে মৌন মিছিলে সাভেজকে শেষ শ্রদ্ধা কলকাতায়


আন্তর্জাতিকের সুরে মৌন মিছিলে সাভেজকে শেষ শ্রদ্ধা কলকাতায়

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ৬ই মার্চ— এই কলকাতা শহরে তিনি যেদিন এসেছিলেন, বিমানবন্দর থেকে রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়াম পর্যন্ত রাস্তায় মানুষের ভিড় সামলাতে ব্যারিকেড করতে হয়েছিলো। পূর্ণ স্টেডিয়ামে ‘ভিভা সাভেজ’ স্লোগানে কলকাতা সংবর্ধিত করেছিলো তাঁকে। স্প্যানিস ভাষায় ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’ আবৃত্তি করে মন জয় করে নিয়েছিলেন কলকাতার। 

বুধবার সকালে কলকাতা জানতে পারলো আর কোনোদিন উগো সাভেজ আসবেন না। তিনি প্রয়াত হয়েছেন। শোকাহত কলকাতার মানুষ বিকালে মৌন মিছিলে পা মেলালেন। সুখে দুখে প্রতিবাদে কলকাতার চেতনায় আন্তর্জাতিকতা আবার প্রমাণিত হলো। 

এদিনের মিছিলে ছিল না কোন স্লোগান। শুধুই মৌনতা। বুধবার বিকাল ঠিক পাঁচটা কুড়ি। তার আগেই শহরের নানা প্রান্ত থেকে বামপন্থী চেতনার হাজার হাজার মানুষ এসে হাজির হয়েছেন ধর্মতলায় কমরেড লেনিনের মূর্তির পাদদেশে। কেউ টেলিভিশনের সংবাদে, কেউ ফেসবুক বা মোবাইল ফোনের মেসেজে আবার কেউ বা মুখে মুখে জানতে পেরেছিলেন ধর্মতলা থেকে শোকমিছিল বের হবে। বামফ্রন্টের এবং বামপন্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলির সেই ডাকেই সাড়া দিয়ে হাজার মানুষের জমায়েত। হাতে হাতে পোস্টারে সাঁটা একটাই ছবি। ছবিতে বজ্রমুষ্ঠি তুলে ধরা ভেনেজুয়েলার সংগ্রামী রাষ্ট্রপতি উগো সাভেজের দৃপ্ত সেই ভঙ্গিমা। 

মৌন মিছিলের সামনে মস্ত এক ব্যানারে লেখা ‘কমরেড উগো সাভেজ তোমায় জানাই লাল সেলাম’, সঙ্গে সেই পরিচিত ছবি। ব্যানারের পিছনে রয়েছেন বামফ্রন্টের শরিক দলের নেতৃবৃন্দ সহ অন্যান্য বাম ও গণতান্ত্রিক দলের নেতৃবৃন্দ। তাঁদের অনেকের হাতেই রয়েছে অর্ধনমিত লালঝাণ্ডা ও কমরেড সাভেজের প্রতিকৃতি। এভাবেই কমরেড সাভেজ স্মরণে ধীর লয়ে মিছিল পায়ে পায়ে এগিয়ে যায় লেনিন সরণি ধরে। পথে তখন আরো হাজার হাজার মানুষ। এই মৌন মিছিল তাঁদের প্রত্যেকেরই নজর কেড়ে নেয়। রাস্তা পেরোতে গিয়েও অনেকে থেমে যান। মৌন মিছিল যখন জ্যোতি সিনেমার মোড়ে — তখনও মানুষ সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে পূর্ব দিকে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারের দিকে তাকিয়ে দেখেছেন মিছিলের দৈর্ঘ্য। আর দেখেছেন কেউ যেন সেই রাস্তা ধরে লালরঙা শিমূল ফুল ছড়িয়ে রেখেছে পতাকায়, লাল ব্যানারে। মিছিল এভাবেই পরে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার ছেড়ে বৌবাজার স্ট্রিট ধরে কলেজ স্ট্রিট হয়ে পৌঁছায় কলেজ স্কোয়ারে বিদ্যাসাগর মূর্তির সামনে। সেখানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মিছিলের সমাপ্তি পর্বে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় প্রয়াত কমরেড উগো সাভেজের স্মরণে। এরপর সম্মিলিত কণ্ঠে শুরু হয় আন্তর্জাতিক সঙ্গীত। এলাকার পরিবেশ তখন সম্পূর্ণ পালটে গেছে মুহূর্তে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র – শিক্ষক – শিক্ষাকর্মী ও পথচারীরাও দাঁড়িয়ে গেছেন। তাঁরাও অনেকে গলা মিলিয়েছেন সেই মুহূর্তের মৌনতা ভেঙে হাজার জনতার কণ্ঠের সঙ্গে। 

এদিন কমরেড সাভেজ স্মরণে এই মৌনমিছিলে অংশ নেন সি পি আই (এম) নেতা নিরুপম সেন, মৃদুল দে, মদন ঘোষ,মহম্মদ সেলিম, রবীন দেব, অনাদি সাহু, নিরঞ্জন চ্যাটার্জি, সুখেন্দু পাণিগ্রাহী, দিলীপ সেন, মহম্মদ নিজামুদ্দিন, রাজদেও গোয়ালা প্রমুখ। ছিলেন সি পি আই নেতা মঞ্জুকুমার মজুমদার, ধীরেন দাশগুপ্ত, অশোক রায়, প্রবীর দেব, আর এস পি’ র ক্ষিতি গোস্বামী, মনোজ ভট্টাচার্য, সুকুমার ঘোষ, ফরওয়ার্ড ব্লকের হাফিজ আলি সইরানি, মার্কসবাদী ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রতিম চ্যাটার্জি, কুহেলী চ্যাটার্জি, আর সি পি আই-র সুকুমার রায়, ওয়ার্কার্স পার্টির শৈবাল চ্যাটার্জি, ডি এস পি-র জয়েশ চন্দ্রকান্ত মেহেতা, এস পি’র নজরুল ইসলাম সহ বলশেভিক পার্টি ও বিপ্লবী বাংলা কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ। এস ইউ সি’র পক্ষে ছিলেন সোমেন বসু, শঙ্কর সাহা, স্বপন ঘোষ, মানব বেরা, সি পি আই (এম এল)’ র দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, কার্তিক পাল, পার্থ ঘোষ, বাসুদেব বসু প্রমুখ।

No comments:

Post a Comment