(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Friday, March 15, 2013

অভিযোগ করলেন রবীন দেব ভুল তথ্য দিচ্ছে, আবোল-তাবোল বলছে তৃণমূল


অভিযোগ করলেন রবীন দেব ভুল তথ্য দিচ্ছে, আবোল-তাবোল বলছে তৃণমূল

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৪ই মার্চ—রাজ্যজুড়ে সর্বত্র হুমকি, নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলার চেষ্টার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলের মনোভাব। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে একথা বলেন সি পি আই (এম) রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রবীন দেব। যাঁরা আট বছর আগে ডিলিমিটেশন নিয়ে শুনানির বৈঠকে হামলা, ভাঙচুর চালিয়েছিল আজ তাঁরাই নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করছে, কুৎসা রটাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে এক্তিয়ার বোঝানোর অধিকার আছে তৃণমূলের? প্রশ্ন তুলেছেন রবীন দেব।

পঞ্চায়েত নির্বাচনের সূচী ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কমিশনের সঙ্ঘাত এখন চরমে। কত দফা ভোট হবে সেই নিয়ে রাজ্য সরকারের সুপারিশ কমিশন আপত্তি করায় তৃণমূল সাংসদ মুকুল রায় কার্যত ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মীরা পাণ্ডেকে। আক্রমণ করা হয় সি পি আই (এম) নেতাদেরও। বৃহস্পতিবার মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে রবীন দেব বলেন, তিনদিন পেরিয়ে গেছে, এখনও পর্যন্ত কোন উত্তর ওরা দিতে পারেনি। এই অসত্যের রাজনীতিই ওদের ধারা। মানুষ বিবেচনায় রাখছেন সব। মানুষের কাছে এদের মিথ্যাচার তুলে ধরছি আমরা।

নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কেই যে তৃণমূল অবহিত নয় বলে কটাক্ষ করেন রবীন দেব। এদিন সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এরা আইনকে লঙ্ঘন করছে। এখনও পর্যন্ত নির্বাচন প্রস্তুতির প্রক্রিয়াই তো সম্পন্ন হয়নি। জানা গেছে সবেমাত্র শুক্রবার গ্রাম পঞ্চায়েত ভিত্তিক ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। আগামীকাল পদাধিকার ভিত্তিক সংরক্ষণের তালিকাও সবেমাত্র প্রকাশ হতে পারে। শুধু তাই নয় আসন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যেভাবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শাসকদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে সে কথাও এদিন জানান রবীন দেব। এদিনই রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে যান রবীন দেব ও সুখেন্দু পাণিগ্রাহী। কমিশনার না থাকায় সচিবের সঙ্গেই তাঁরা কথা বলেন। সে প্রসঙ্গেই রবীন দেব বলেন, আমার এদিনও নির্দিষ্ট অভিযোগ জানিয়েছি কমিশনে। সিঙ্গুর বিধানসভা এলাকায় ২০নম্বর ওয়ার্ডে ওরা ও বি সি প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অথচ ঐ বুথে কোন ও বি সি ভোটারই নেই। কমিশনের সঙ্গে কথা বলার সময়তেই আমরা জানতে পারি হুগলীর খানাকুলে ঘটেছে এরকম ঘটনা। সেখানে একটি বুথে তপসিলী প্রার্থীর জন্য সংরক্ষিত হচ্ছে অথচ সেখানে কোন তপসিলী ভোটারই নেই! এই বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলার জন্যই তো কমিশনে যেতে হয় আমাদের। এটাই গণতান্ত্রিক রীতি। তৃণমূল গণতান্ত্রিক রীতি মেনে কমিশনের নিজেদের বক্তব্য জানায় না অথচ বাইরে কমিশনের বিরুদ্ধে কুৎসা, মিথ্যাচার করছে।

এই প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূলের প্রকৃত মনোভাব কী, সে কথা উল্লেখ করে রবীন দেব বলেন, ২০০৫সালে কলকাতা, শিলিগুড়িতে ডিলিমিটেশনের শুনানির সময় তৃণমূলের হাঙ্গামা, ভাঙচুরের কথা মনে আছে সকলেরই। এমনকি সে সময় মহাজাতি সদনে ডিলিমিটেশনের শুনানির রিপোর্ট লিখতে গিয়েও তৃণমূলী হাঙ্গামার কথা উল্লেখ করে কমিশনের সচিব সাঙ্গারা রাম রিপোর্টে লিখেছিলেন কমিশনের সদস্যদের বোতল ছুঁড়ে মারা থেকে, মঞ্চ ভাঙচুর, হই চই সবই হয়েছিল। আর এখন এরা নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। রাজ্যের সর্বত্র যে হুমকি, আক্রমণ, নৈরাজ্যের চেহারা তার থেকে বিচ্ছিন্ন নয় পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলের এই চেহারা। আজকেই হলদিয়া পৌরসভার দুজন সি পি আই (এম) কাউন্সিলরকে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শপথ নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই পৌরসভার বিরুদ্ধে এই চক্রান্ত, হামলা চলছে। আবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাতেও চলছে বিশৃঙ্খলা। রাজ্যের সাধারণ মানুষ সবই বিবেচনা করছেন। এই উত্তর পাবে তৃণমূল। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পার্টি রাজ্য কমিটির সদস্য সুখেন্দু পাণিগ্রাহী।

এই প্রসঙ্গেই তৃণমূল নেতা মুকুল রায়ের মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা করে রবীন দেব বলেন, এর আগে কমিশনের সঙ্গে আমাদের জড়িয়ে যে মিথ্যাচার করেছে তা প্রমাণ করতে পারেনি তৃণমূল। এখন আবার নৈতিকতার কথা বলা হচ্ছে। তৃণমূলকে নৈতিকতা শেখানোর ঔদ্ধত্য আমাদের নেই’। উল্লেখ্য, বুধবার চিটফান্ড পরিচালিত একটি সংবাদপত্রে তিনি হুমায়ুন কবীরকে মন্ত্রী রাখার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে একরাশ ভুল তথ্য দিয়েছেন এবং তার পরে বলেছেন, ‘দয়া করে নৈতিকতা শেখাবেন না।’ এরপর উপনির্বাচনে গো-হারান হেরে যাওয়া হুমায়ুন কবীরকেই ফের মন্ত্রী করার পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে ইতিহাস বিকৃত করেছেন মুকুল রায়। রবীন দেব তথ্য দিয়েই উল্লেখ করে বলেন, বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থেকে ১৯৭৭ সাল থেকে পরপর চারবার নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী হওয়া অচিন্ত্য রায়ের উদাহরণ টানা হয়েছে হুমায়ুন কবীরের মন্ত্রিত্বের সাফাই দিতে। সত্যের ধার ধারে না এঁরা। আবোল-তাবোল বলছেন মুকুল রায়।

No comments:

Post a Comment