(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Thursday, March 7, 2013

নতুন মোড়কে পুরানো বিল এনে উচ্চশিক্ষায় সংরক্ষণে মমতার ‘বিপ্লব’


নতুন মোড়কে পুরানো বিল এনে উচ্চশিক্ষায় সংরক্ষণে মমতার ‘বিপ্লব’

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ৬ই মার্চ— বিল তৈরি করেছিল বামফ্রন্ট সরকারই। এবার রাজ্যের উচ্চ শিক্ষায় সংরক্ষণের সুযোগ বাড়াতে সেই বিলকেই বিধানসভায় পেশ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। 

বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের উচ্চ শিক্ষায় সংরক্ষণের জন্য বাজেট অধিবেশনে নতুন বিল আনার কথা ঘোষণা করেছেন। মমতা ব্যানার্জি জানিয়েছেন, ‘‘উচ্চ শিক্ষায় এস সি-দের জন্য ২২শতাংশ, এস টি দের ৬শতাংশ এবং ও বি সি-দের জন্য ১৭শতাংশ সংরক্ষণ করা হবে। এটা বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত।’’ 

কিন্তু এরাজ্যে বামফ্রন্ট সরকারের সময়েই উচ্চ শিক্ষায় তফসিলী জাতির জন্য ২২শতাংশ ও আদিবাসীদের জন্য ৬শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা বহাল ছিল। ও বি সি-দের জন্য সংরক্ষণের উদ্যোগও নেয় বামফ্রন্ট সরকার। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী সুদর্শন রায়চৌধুরীকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, ‘‘উচ্চ শিক্ষায় ও বি সি-দের সংরক্ষণের জন্য রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দপ্তর একটি বিলের খসড়া তৈরি করে। সেই খসড়া পাঠানো হয়েছিলো অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দপ্তরের কাছে। ২০১১সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়ে যাওয়ার জন্য আর তৈরি করা সম্ভব হয়নি।’’

বামফ্রন্ট সরকারের সেই খসড়া বিলে উচ্চ শিক্ষায় ও বি সি-দের জন্য সংরক্ষণের ফলে অন্যান্য অংশের (জেনারেল ক্যাটাগরি) ছাত্রছাত্রীদের যাতে আসন সংখ্যা কমে না যায় তারও ব্যবস্থা করা ছিলো। ২০১০সালের ২৩শে ডিসেম্বর এই বিষয় নিয়ে রাজ্য বিধানসভায় একটিও বিবৃতিও দিয়েছিলেন সুদর্শন রায়চৌধুরী। সেই বিবৃতিতে তৎকালীন উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকারের পরিচালিত এবং পে প্যাকেট প্রাপ্ত বেসরকারী কলেজগুলিতে স্নাতকস্তরে ভর্তির ক্ষেত্রে ও বি সি-দের জন্য মোট ১৭ শতাংশ হারে সংরক্ষণ চালু করা হবে। আগামী শিক্ষাবর্ষ অর্থাৎ ২০১১-১২ সাল থেকে ভর্তির ক্ষেত্রে এই হার করা হবে ১০ শতাংশ। এর মধ্যে ওবিসি ‘এ’ ক্যাটাগরি ভুক্তদের জন্য ৫ শতাংশ এবং ও বি সি ‘বি’ ক্যাটাগরিভুক্তদের জন্য ৫শতাংশ সংরক্ষণ চালু হবে। পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে অর্থাৎ ২০১২-১৩ সাল থেকে ভর্তির ক্ষেত্রে সংরক্ষণের হার বাড়বে আরো ৭ শতাংশ। এরমধ্যে ও বি সি ‘এ’–র জন্য ৫শতাংশ এবং ও বি সি ‘বি’-র জন্য ২শতাংশ সংরক্ষিত হবে। সবমিলিয়ে ওবিসিদের জন্য মোট ১৭শতাংশ আসন সংরক্ষিত হবে। অন্যান্য অংশের ছাত্রছাত্রীদের যাতে আসন সংখ্যার কোনো হেরফের না ঘটে তারজন্য তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠিও দিয়েছিলেন। কারণ, রাজ্যের সরকারী কলেজ বা সরকারের অর্থপুষ্ট কলেজগুলিতে আসন সংখ্যা বাড়ানো নিয়ে সমস্যা না হলেও মেডিক্যাল কলেজ বা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে আসন সংখ্যা বাড়াতে হলে মেডিক্যাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া বা এ আই সি টি ই-এর অনুমোদন প্রয়োজন। একইভাবে আইন কলেজের আসনসংখ্যা বাড়াতে বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার অনুমোদন লাগে। বিগত সরকারের আমলে উচ্চ শিক্ষা দপ্তর উদ্যোগ নিয়ে এসব কাজ করে রেখেছিলো। 

উচ্চ শিক্ষায় সংরক্ষণ নিয়ে বামফ্রন্ট সরকারের করে রাখা এই কাজ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি অবশ্য কোনো রা কাড়েননি। তিনি বরং তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের একক কৃতিত্ব দাবি করে এদিন মহাকরণে জানান,‘‘এটা বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত। এই যে সিট রিজার্ভ করবো তাতে জেনারেল ক্যাটাগরির সিটে কোনো টাচ করবো না। তাকে অক্ষুণ্ণ রেখে একস্ট্রা সিট করবো। তারজন্য রাজ্য সরকার ধাপে ধাপে ৬বছরে ১হাজার কোটি টাকা খরচ করবে।’’ মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর উচ্চশিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক জানান,‘‘রাজ্যে তফসিলী জাতি ও আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষণ আগেই ছিলো। নতুন যা হতে চলেছে তা কেবল ওবিসিদের জন্য সংরক্ষণ।’’ 

No comments:

Post a Comment