(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Wednesday, March 6, 2013

ফাঁস হলো মাদ্রাসার ইংরাজীর প্রশ্ন, আজ বাতিল পরীক্ষা


ফাঁস হলো মাদ্রাসার ইংরাজীর প্রশ্ন, আজ বাতিল পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ৬ই মার্চ— এবার মুখ্যমন্ত্রীর নিজের হাতেই থাকা মাদ্রাসা দপ্তর পরিচালিত হাই মাদ্রাসার ইংরেজি প্রশ্নপত্র ফাঁস হলো। পরীক্ষার আগের দিন। বসিরহাট, বারাসত সহ একাধিক জায়গায় দেখা গেছে ইংরেজির প্রশ্নপত্র। তাই বাতিল হলো বৃহস্পতিবারের হাই মাদ্রাসার ইংরেজি পরীক্ষা। একই সঙ্গে বাতিল করা হয়েছে ফাজিল ও হালিমের পরীক্ষাও। আগামী ১২ই মার্চ পরিবর্তিত দিনে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদ।

গণটোকাটুকি, এক সিলেবাসের পড়ুয়াদের অন্য সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা এবারের মাধ্যমিকে ঘটেছে। কিন্তু পরীক্ষা ব্যবস্থার সমস্ত বিশৃঙ্খলাকে হার মানালো এবারের হাই মাদ্রাসার ইংরেজি পরীক্ষা। উত্তর ২৪পরগনার বেশিরভাগ জায়গায় এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রকাশ্যে দেখতে পাওয়া নিয়ে চাঞ্চল্য দেখা যায়। সেই প্রশ্নপত্র হাতে আসে মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের হাতেও। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র নিয়ে পর্ষদ পরীক্ষা করে দেখে। তাতে দেখা যায় মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে বেশিরভাগ প্রশ্নের মিল পাওয়া যাচ্ছে। এরপর বিষয়টি মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আগামীকালের হাই মাদ্রাসার ইংরেজি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় পর্ষদ। পরে পর্ষদ সভাপতি ফজল রব্বি জানান, ‘‘হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিলের ইংরেজি পরীক্ষা আগামী ১২ই মার্চ হবে। পরীক্ষা কেন্দ্র ও সময় অপরিবর্তিত থাকছে।’’

হাই মাদ্রাসার ইংরেজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রকাশ্যে চলে এলেও ফাজিল ও আলিমের প্রশ্নপত্র বের হয়নি। তা সত্ত্বেও কেন ঐ দুটো পরীক্ষা বাতিল করা হলো। এব্যাপারের পর্ষদের বক্তব্য, ‘‘এবছর প্রায় ৫৫হাজার ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষা দিচ্ছে। হাই মাদ্রাসার ইংরেজির প্রশ্নপত্র পাওয়া গেছে, কিন্তু ফাজিল, আলিমের প্রশ্নপত্র যে বেরিয়ে আসেনি তার নিশ্চয়তা নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে। ফলে তিনটে পরীক্ষাই স্বচ্ছ রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’ কীভাবে পরীক্ষার আগের দিন প্রশ্নপত্র প্রকাশ্যে চলে এসেছে? এব্যাপারে পর্ষদ মুখে কুলুপ আঁটলেও মাদ্রাসা পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত একাংশের শিক্ষকদের বক্তব্য, ‘‘প্রশ্নপত্রকে নিয়ে ব্যবসা করাই যদি উদ্দেশ্য থাকে তাহলে কেন তা প্রকাশ্যে আনা হলো? সেটা তো গোপনই থাকার কথা। তা হলো না। আবার এটাও হতে পারে যে প্রশ্নপত্র নিয়ে আগেই যা ব্যবসা করার কথা তা হয়ে গিয়ে প্রশ্নপত্রকে প্রকাশ্যে এনে দেওয়া হলো যাতে ব্যবসাও করা গেল আবার পরীক্ষাটাকে বাতিল করা গেল।’’ প্রশ্নপত্র তৈরি করা, ছাপানো এবং ট্রেজারিতে জমা রাখা—সবটাই হয় অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে। সাধারণত ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র পরীক্ষার দিনে যায় পরীক্ষা কেন্দ্রে। নির্দিষ্ট কোন অংশ থেকে হাই মাদ্রাসার ইংরেজি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গেল তা নিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে বলে মাদ্রাসা দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে।

No comments:

Post a Comment