(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Friday, March 15, 2013

আদালতে হেরেছেন ১৬ বার তৃণমূলী ঝাণ্ডা নিয়ে উচ্ছেদ অভিযানে নেমেছেন জোতদার


আদালতে হেরেছেন ১৬ বার তৃণমূলী ঝাণ্ডা নিয়ে উচ্ছেদ অভিযানে নেমেছেন জোতদার

জয়ন্ত সাহা

কোচবিহার, ১৪ই মার্চ—তুফানগঞ্জের প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক যতীন্দ্রচন্দ্র সিংহ সরকার কংগ্রেস আমলে খাস হওয়া জমি ফেরত পেতে মোট ১৬ বার নিম্ন আদালত সহ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে প্রতিবারই মামলায় হেরেছেন। জমি ফেরত পাওয়া হয়নি। রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রাক্তন বিধায়কের পরিবারের সদস্যরা ফের তৃণমূলের ঝাণ্ডা নিয়ে তুফানগঞ্জের দেওচড়াই এবং বালাখটি মৌজার শতাধিক পাট্টপ্রাপকদের উচ্ছেদ করে ফের জমির দখল নিচ্ছে। এমনকি তুফানগঞ্জ পৌর এলাকায় জেলা প্রশাসনের অধীনে থাকা ২২৩২৯ দাগ নম্বরের প্রায় ১ একর ৫৫শতক খাসজমির দখল নেবার চেষ্টা করছে কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়কের পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে সরকারের হেফাজতে থাকা ঐ জমির প্রতি কাঠার মূল্য ১০ লক্ষ টাকা।

বৃহস্পতিবার কোচবিহারে সাংবাদিক বৈঠক করে এই অভিযোগ করেন সি পি আই (এম) জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তমসের আলী।

এদিন তিনি বলেন, প্রাক্তন বিধায়ক ১৯৫২ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর বিধায়ক ছিলেন। তিনি বিধায়ক থাকাকালীন সময়ে কংগ্রেস সরকার ১৯৫৫ সালে এস্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যাক্ট পাস করে। তৎকালীন জোতদার বিধায়ক নিজের জমি বাঁচাতে সরকারের আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ‍‌১৭৯.৭৯ একর কৃষি জমি বেচে দেন। কংগ্রেস সরকারের তৎকালীন ভূমিদপ্তর মামলা করে যতীন্দ্র চন্দ্র সিং সরকারের সমপরিমাণ জমি ভেস্ট করে দেয়।

দেওচড়াই ও বালাখটি এলাকার প্রায় ৭০০ গরিব পরিবারকে ঐ ভেস্ট জমি বিলি করে পাট্টাও দেয় সরকার।

৯৪ সালে প্রাক্তন বিধায়কের মৃত্যুর পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে ফের ২০১০ সালে জমি ফেরত পেতে সুপ্রিমকোর্টে মামলা দায়ের করে। সে মামলা এখন বিচারাধীন রয়েছে।

এদিন তমসের আলী বলেন, জোতদার যতীন্দ্রচন্দ্র সিংহ সরকার নিম্ন আদালত থেকে হাইকোর্ট পর্যন্ত মোট ১৬টি মামলায় হেরেছেন। ঐ জোতদার ০.৭০ একর বাস্তজমি ছাড়া কৃষি ও অকৃষি জমি রাখতে পারবে না বলে পরিষ্কার রায় রয়েছে। আইনী পথে জমি দখল করতে না পেরে কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়কের পরিবারের সদস্যরা তৃণমূলের ঝাণ্ডা নিয়ে পাট্টাপ্রাপকদের উচ্ছেদ করছে। নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, জেলাশাসককে উচ্ছেদ ‍ ঠেকাতে একাধিকবার লিখিত আবেদন করেও কোনো লাভ হয়নি।

কোচবিহার জেলার এক সময়ের বড় জোতদারের পরিবার এখন তৃণমূলের ঝাণ্ডা নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান করছে। সাংবাদিক বৈঠকের পর তমসের আলী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভূমি ও ভূমিরাজস্ব দপ্তরের মুখ্যসচিব, জেলাশাসক এবং ভূমি ও ভূমিরাস্ব দপ্তরের ‍‌ জেলা আধিকারিককে ফ্যাক্সবার্তা পাঠিয়ে পাট্টাপ্রাপকদের অধিকার রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কৃষকসভার জেলা সম্পাদক অনন্ত রায়। তিনি বলেন পাট্টাপ্রাপকদের অধিকার রক্ষায় জেলাজুড়ে আন্দোলনে নামবে কৃষকসভা।

No comments:

Post a Comment