(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Sunday, April 28, 2013

KUNAL GHOSH AND DEBJANI MUKHERJEE: ‘চিট ফান্ড’ তদন্তে কেন্দ্রের ঢিলেমিতে প্রশ্নের মুখে রাজনীতির যোগাযোগও|


‘চিট ফান্ড’ তদন্তে কেন্দ্রের ঢিলেমিতে প্রশ্নের মুখে রাজনীতির যোগাযোগও|

নিজস্ব প্রতিনিধি,গণশক্তি

নয়াদিল্লি, ২৭শে এপ্রিল- সারদা গোষ্ঠী কিভাবে ঘুরিয়েছে তা জানিয়েছে সেবি-ই। একাধিকবার প্রয়োজনীয় কাগজ দেখানোর বদলে পাঠিয়েছে বাক্স বাক্স বাজে কাগজ। কখনো আঠাশ বাক্স, কখনো বা ঊনিশ! 

গত ২৩তারিখ সারদার লেনদেন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে শেয়ার বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি। তিন মাসের মধ্যে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে সারদার প্রধান সুদীপ্ত সেনকে। সেই নির্দেশনামাতেই জানানো হয়েছে সারদার তরফে তদন্ত বানচাল করার নানা কৌশলও। যেমন, গোষ্ঠীর কর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হলে, এসেছেন কম্পিটারে তথ্য তোলার কাজে যুক্ত কর্মচারীরা। যাদের থেকে বিশদ তথ্য মেলার সম্ভাবনাই নেই।

২০১০সালের এপ্রিলে আসীন বামফ্রন্ট সরকারের থেকে বিভিন্ন সংস্থার বেআইনি ব্যবসার গুরুতর অভিযোগ পেয়েছিল সেবি। প্রশ্ন উঠছে, তারপর প্রায় তিন বছর কতটা সক্রিয় ছিল সেবি। সক্রিয়তা কতটা ছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বা কেন্দ্রেরই কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের। 

মমতা ব্যানার্জির ভূমিকার কড়া সমালোচনার পাশাপাশি সেবি বা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ঢিলেমি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ, ২০০৯ কেন্দ্রের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের থেকে সমর্থন তুলে নিয়েছিলেন বামপন্থীরা। কংগ্রেসের তখন তৃণমূলের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থীদের হারাতে নেমেছে। অবৈধ ব্যবসা চালানো সংস্থার থেকে টাকা তোলার অভিযোগ বারেবার উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বিশেষত ২০১১সালে বিধানসভা ভোটের সময়। প্রশ্ন উঠছে, অবৈধ আর্থিক ব্যবসার সঙ্গে তৃণমূলের নিবিড় যোগাযোগ কি সেই কারণেই উপেক্ষিত থেকেছে? 

অর্থনীতিবিদ সি পি চন্দ্রশেখরের বক্তব্য, ডাকঘরের মতো প্রকল্পে সুদ কমানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে চিট ফান্ড ব্যবসার যেমন যোগ আছে। তেমনই, আর্থিক উদাকরণের নীতির ফলে বেসরকারী অস্বচ্ছ ব্যাঙ্কিং বেড়েছে সারা দেশে। সঙ্কট আরো বাড়ছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায়। 

চলতি কথায় ‘চিট ফান্ড’র ফাঁদ রয়েছে দেশজুড়ে। আর্থিক ক্ষেত্রের নজরদারিতে কেন্দ্রের একগুচ্ছ প্রতিষ্ঠান দায়িত্বে থাকার পরও। ব্যাঙ্ক ছাড়া অন্য আর্থিক সংস্থাও আইন অনুযায়ী রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নজরদারির আওতায় পড়ে। আবার, কিছু ব্যবসা শেয়ার বাজারে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘সেবি’র আওতায়। কোনো সংস্থাকে ব্যবসায় নামতে গেলে কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের অধীন রেজিস্ট্রার অব কোম্পানিজ অনুমোদন নিতে হয়। উল্লেখ্য, ‘চিট ফান্ড’ খুললে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী রাজ্য সরকারের অনুমোদন নিতে হয়। সারদা গোষ্ঠী তো একশোর বেশি সংস্থার অনুমোদন নিয়েছিল রেজিস্ট্রার অব কোম্পানিজ থেকে। অথচ, রাজ্য সরকারকে জানায়নি। 

চালু কথায় ‘চিট ফান্ড’ হলেও আইনের চোখে তা না-ও হতে পারে। ১৯৮২সালের চিট ফান্ড আইন পাস করেছিল কেন্দ্র। ‘চিট’ অর্থাৎ কাগজের টুকরো, যেখানে টাকা যে পেলো আর যে দিলো তাঁদের পারস্পরিক সম্মতি থাকে। টাকা তোলা হবে মূলত একটি গোষ্ঠীর থেকে। প্রতিদানও সীমাবদ্ধ সেই অংশের মধ্যেই। সেই আইন অনুযায়ী রাজ্য সরকারের অনুমোদন পেতে হবে ‘চিট ফান্ড’ খুলতে। 

রাজ্যে যে সংস্থাগুলি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল টাকা তোলার ব্যবসায় অভিযুক্ত তারা কেউ রাজ্য সরকারকে জানিয়ে বা অনুমতি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেনি। প্রশ্ন হলো, তা’হলে এদের ধরবে কে? 

বিপুল প্রতিদানের লোভ দেখিয়ে টাকা তোলার ব্যবসা হয় ধরা পড়লে তারা নিজেদের চিট ফান্ড হিসেবে স্বীকারই করে না। সংস্থাটি ‘চিট ফান্ড’ প্রমাণ না হলে ওই আইনে ব্যবস্থা নেওয়ারও সুযোগ থাকে না। তৃণমূলেরই ঝাড়খণ্ডের রাজ্যসভা সদস্য কে ডি সিংয়ের ১০হাজার কোটি টাকার গোষ্ঠী অ্যালকেমিস্ট। একাধিক ক্ষেত্রে তাদের বিনিয়োগ রয়েছে। কিন্তু, ভুয়ো জমির দলিল দেখিয়ে অথবা বিপুল প্রতিদানের লোভ দেখিয়ে জনগণের থেকে টাকা তোলার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে জমা পড়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্কে। হাত ঘুরে তদন্তের দায়িত্ব পায় এস এফ আই ও, সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস। গত অক্টোবরে তদন্ত শুরু করে এস এফ আই ও। আমানতকারীকে বহুগুণ দামী জমি অথবা ডিবেঞ্চার দেওয়ার ব্যবসা করতে হলে শেয়ার বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি’র অনুমতি প্রয়োজন। সেই অনুমতি অ্যালকেমিস্টের নেই। এবার তদন্ত শুরু হতেই দিল্লি হাইকোর্টে চলে যায় অ্যালকেমিস্ট। সংস্থার দাবি, তারা চিট ফান্ড নয়। লেনদেন সংক্রান্ত সেবি’র অনুমোদনও প্রয়োজন নেই তাদের। আপাতত তদন্ত স্থগিত রেখেছে আদালত। 

একাধিক আইনের ফাঁক গলে ঘুরে বেড়িয়েছে সারদাও। বিপুল প্রতিদান দেওয়ার নামে জমি বা ফ্ল্যাটের প্রতিশ্রুতি অথবা ডিবেঞ্চারের কাগজ আমানতকারীর হাতে ধরানোর ব্যবসা পরিভাষায় ‘কালেক্টিভ ইনভেস্টমেন্ট স্কিম’, সি আই এস। এক্ষেত্রে, সেবি-র অনুমোদন লাগবেই। কিন্তু, অনুমোদন না থাকায় প্রশ্ন তুলতে সেবি-কে সারদা বলেছিল তাদের ব্যবসা আসলে রিয়াল এস্টেটের। অর্থাৎ, জমি-বাড়ি-ফ্ল্যাট বানিয়ে বিক্রি করার। সারদা এমন আবাসন প্রকল্পের বিজ্ঞাপনও দিতো। সেবি-র সন্দেহ হয় এখানেই। খোঁজ নিয়ে তারা যা দেখে, মোদ্দা কথায়, তা হলো আমানতকারীদের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে তা পালন করার মতো সম্পদ নেই সারদা গোষ্ঠীর।

কিন্তু, গত তিন বছর ধরে এ’টুকুই করে উঠতে পারলো কেন সেবি? কোনো ব্যবস্থা নিতে পারলো না কেন? রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, তৃণমূল সরকারকে বিভিন্ন সময়ে সতর্ক করা হয়েছিল। প্রশ্ন হলো, সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক কতটা সক্রিয় ছিল। কেন্দ্রেরই রেজিস্ট্রার অব কোম্পানিজ-এ কেবল সারদার একশোর বেশি সংস্থা নাম নথিভুক্ত রয়েছে। তেমনই রয়েছে রোজভ্যালির। পর্যবেক্ষক মহলে প্রশ্ন, আর্থিক জালিয়াতির বিশেষ তদন্ত সংস্থা এস এফ আই ও-কে কেন নামানো হলো আমানতকারীদের সর্বনাশের পর। এই ধরনের ব্যবসায় নতুন আমানতকারীদের টাকা থেকেই আগের ধাপের আমানতকারীদের টাকা মেটানো হয়। পিরামিডের আকৃতির মতো এজেন্ট বাড়ানো এই ব্যবসার নিয়ম। ফলে, দেরির অর্থ আরো বেশি মানুষের জালে জড়িয়ে পড়া। 

২০০৯সালে লোকসভা ভোটে কেন্দ্রে রাজনৈতিক সমীকরণে বদল হয়। কেন্দ্রের সরকার তৃণমূল নিজেই আসীন। তারপর ২০১২পর্যন্ত কেন্দ্রে সরকারে আসীন তৃণমূল। প্রশ্ন উঠছে, তার সঙ্গে তদন্তে ঢিলেমির যোগ নেই তো? 


No comments:

Post a Comment