(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Sunday, April 28, 2013

MAMATA BRINGS NEW BILL TO CURB CHIT FUNDS IN WEST BENGAL


আইন কার জন্য?
(সম্পাদকীয়, গণশক্তি)

সাম্প্রতিক সারদা কেলেঙ্কারি এবং রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে অনেকগুলি প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষত রাজ্য সরকারের আনতে চাওয়া নতুন আইন কতটা সদিচ্ছার ফসল তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। সারদা কেলেঙ্কারির কয়েকদিন পরে গ্রেপ্তার হয়েছে ঐ সংস্থার কর্ণধার সুদীপ্ত সেন। রাজ্য সরকার এব্যাপারটির তদন্তের জন্য প্রাক্তন বিচারপতিকে দিয়ে কমিশন গঠন করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের সাহায্যের জন্য তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কর বসিয়ে ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। রাজ্যের চূড়ান্ত পদক্ষেপ হলো বামফ্রন্ট সরকারের তৈরি বিলকে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে ফিরিয়ে এনে নতুন বিল তৈরি। অতি দ্রুততার সঙ্গে আগামী ৩০শে এপ্রিল বিধানসভা ডেকে নতুন আইন প্রণয়ন করতে চলেছে রাজ্য। এরপর সেই বিল ফেরত এলে আইন কার্যকর করে আর্থিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে দাবি করেছে রাজ্য সরকার। এই নতুন আইন কতদিনে স্বাক্ষরিত হবে তা কেউই জানে না। আগের বিলটি বাতিল হওয়ায় নতুন বিলটি সারদা গোষ্ঠীর ওপর প্রযোজ্য হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সারদা গোষ্ঠীকে এই আইনের হাত থেকে ছাড় দিতেই কি নতুন আইন তৈরি হচ্ছে? 

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি বামফ্রন্ট সরকারের আমলে আনা আইনকে আরো কঠোর করতেই নতুন আইন তৈরি হতে চলেছে। বামফ্রন্টের আমলে তৈরি আইনে বেআইনী চিট ফান্ডের সম্পত্তি, হস্তান্তরিত করে দেওয়া সম্পত্তি ইত্যাদি আটক (অ্যাটাচ) করে জেলায় জেলায় বিশেষভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত আদালতের মাধ্যমে তা বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছিল। এর থেকে কঠোর আইন কি হতে পারে? বর্তমান বিলটিতে, যারাই আমানতকারীদের টাকা ভোগ করেছে তাদের ওপরই কোপ পড়তো। কিন্তু নতুন বিলের প্রস্তাবে এর থেকে বেশি কতটা এগোতে পারবে সরকার? বামফ্রন্টের আমলে বিলে জেলাশাসক এবং কমিশনারের ওপর ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো। এক্ষেত্রে নতুনভাবে নিযুক্ত ইকনমিক অফেন্স উইং’র ডিরেক্টরের হাতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরফলে কি তদন্ত প্রক্রিয়ায় শ্লথতা আসবে না? জেলায় জেলাশাসকের পক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হতে পারতো।আটের দশকে সঞ্চয়িতা এবং নয়ের দশকে ওভারল্যান্ড বা ভেরোনার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার আদালতের রিসিভার বসিয়ে টাকা ফেরত দিয়েছে। আদালতের মাধ্যমে এই কাজ করলে নিরপেক্ষতা রক্ষা সম্ভব হয়। যেখানে সরকারের একটি প্রভাবশালী অংশ এই সারদা কে‍‌লেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত সেখানে এই মূল্যায়ন ও ক্ষতিপূরণ পদ্ধতিকে ত্রুটিমুক্ত রাখতে হবে। নাহলে নতুন কোন বেনিয়মের জন্ম দেবে সরকারের এই আইন। প্রণয়নের কাজ দ্রুততার সঙ্গে করার যদি সদিচ্ছা থাকতো তাহলে পুরানো আইনকে সংশোধন করা যেত। একেবারে নতুন আইন তৈরির প্রয়োজন হতো না। নতুন কোন আইনে পুরানো ফৌজদারি অপরাধের সাজা দেওয়া বা রেট্রোসপেক্টিভ এফেক্ট দেওয়া সম্ভব নয়। ফৌজদারি অপরাধীদের শুধুমাত্র সেই সময়ের আইন দিয়ে শাস্তি দেওয়া সম্ভব। ফলে আইনগত দিক থেকে সারদা কেলেঙ্কারি নতুন আইনের আওতায় আনা হয়তো সম্ভব হবে না। সাধারণভাবে বোঝা যাচ্ছে সামান্য কয়েকটি সংশোধনের জন্য নতুন আইন তৈরির অর্থ প্রক্রিয়াকে আরো দেরি করানো। যার কোন প্রয়োজন ছিলো না। সিঙ্গুর নিয়ে নতুন আইন করে জটিলতা তৈরি করেছে রাজ্য সরকার। চিট ফান্ড নিয়ে নতুন আইন সেই রকম জটিলতাই সৃষ্টি করবে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা। সারদার মতো চিট ফান্ডগুলি শাস্তি পাওয়ার বদলে হয়তো রক্ষা পাবে সরকারের নতুন আইনে।

No comments:

Post a Comment