(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Sunday, April 28, 2013

MAMATA WAS AWARE OF SARADHA GROUP: সারদার পিছনে তৃণমূল তা ভালোই জানতেন মুখ্যমন্ত্রী বললেন বিরোধী দলনেতা|


সারদার পিছনে তৃণমূল তা ভালোই জানতেন মুখ্যমন্ত্রী
বললেন বিরোধী দলনেতা|

নিজস্ব প্রতিনিধি,গণশক্তি

কৃষ্ণনগর, ২৬শে এপ্রিল—সারদা গোষ্ঠীর চিট ফান্ড ব্যবসা চালানোর পিছনে তৃণমূল কংগ্রেসের কে বা কারা রয়েছেন, তাদের নাম প্রকাশ্যে আনুক রাজ্য সরকার। শুক্রবার এই দাবি জানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। এদিন কৃষ্ণনগর কালেক্টরেট সংলগ্ন প্রাঙ্গণে নদীয়া জেলা বামফ্রন্টের ডাকে বিক্ষোভ সমাবেশে মিশ্র বলেন, স্বাধীনোত্তরকালে পশ্চিমবাংলায় এত বড় কেলেঙ্কারি কখনও হয়নি। অথচ, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভাবলেশহীনভাবে একের পর এক অসত্য তথ্য দিয়ে চলেছেন। এই কেলেঙ্কারির পেছনে শাসক দলের একের পর এক নেতা-মন্ত্রী রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত দু’বছর ধরে সব কিছু ঘটছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে সব কিছু জানতেন। অথচ এখন উনি বলছেন, তিনি নাকি পয়লা বৈশাখের দিন শুনেছেন! ফলে এই রাজ্য সরকারের হাতে তদন্তের ফল কী হবে সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে। আর, এজন্যই সারদা কাণ্ডের গোটা তদন্তভার সি বি আই-কে দিয়ে করাতে হবে। 

সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, অসাধারণ এক মুখ্যমন্ত্রীর রাজত্বে আমরা বাস করছি! একের পর এক সাজানো ঘটনা রাজ্যবাসীর কাছে হাজির করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বললেন, সারদা গোষ্ঠীর মালিক উত্তর ভারতে রয়েছেন। মানুষ এখন প্রশ্ন করছেন, তিনি যখন কিছুই জানেন না, তো এটা জানলেন কী করে যে সুদীপ্ত সেন উত্তর ভারতে রয়েছেন? এখন মূল প্রশ্ন অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য কমিশন গঠন করে সর্বস্বান্ত হওয়া মানুষগুলির পাওনাগণ্ডা পাওয়ার পথ বন্ধ করার তালে রয়েছে এই সরকার। 

তিনি বলেন, অতীতে খাদ্যাভাবের সময় এরাজ্যের জনগণ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে কাঁচকলা, মাইলো ভুট্টা ইত্যাদি খাওয়ার উপদেশের কথা শুনেছিলেন। কিন্তু রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া আজ পর্যন্ত কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জনগণকে বেশি বেশি করে সিগারেট খেয়ে কোষাগার ভর্তির উপদেশ দিয়েছেন বলে শোনা যায়নি। 

মিশ্র এদিন বলেন, কোনো রকম তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই আমাদের রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে আবোল তাবোল কথা বলার প্রশ্নে রেকর্ড সৃষ্টি করে চলেছেন। যখন যা খুশি তাই তিনি বলে যাচ্ছেন। তাঁরই রাজত্বে পুলিস হেফাজতে ছাত্রনেতা সুদীপ্ত গুপ্তকে পিটিয়ে খুন করা হলো। তদন্ত করার ফুরসতটুকু পর্যন্ত তিনি দিতে রাজি নন। সাথে সাথেই বলে দিলেন, দুর্ঘটনাতেই সুদীপ্তর মৃত্যু হয়েছে। অথচ তথ্যপ্রমাণ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে তাকে একরকম খুনই করা হয়েছে। তাই বামপন্থী প্রতিটি দল ও ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে বিচারবিভাগীয় তদন্ত চাওয়া হলো। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তা মানতে রাজি নন। ৯ই এপ্রিল ওই ছাত্রনেতার খুনের বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে দিল্লিতে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে অনভিপ্রেতভাবে রাজ্যের অর্থমন্ত্রীকে হেনস্তা করা হলো। সাথে সাথে ঘটনার নিন্দা করে বামপন্থী নেতৃবৃন্দ বিবৃতি দেন। দুঃখ প্রকাশও করেন। কিন্তু, সবাই দেখলেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বামপন্থী দলের প্রায় দেড় হাজার অফিস ভাঙচুর করা হলো। উন্মত্তের মত সে কাজ করলো তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতী বাহিনী। একবারের জন্যও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন? 

পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রসঙ্গে মিশ্র বলেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনকে বানচাল করতে এই সরকার উঠে পড়ে লেগেছে। সরকারীভাবে কী করে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়া যায় সেই ফন্দি-ফিকির চালানো হচ্ছে। 

এদিনের বিক্ষোভ সমাবেশে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ২০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক সুমিত দে। সভাপতি তাঁর ভাষণে বলেন, গোটা রাজ্যের সাথে সাথে নদীয়া জেলাতেও তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্যে গণতান্ত্রিক শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার মত অবস্থা হয়েছে। একেবারে স্বৈরতান্ত্রিক কায়দায় রাজ্যের তৃণমূল নেত্রী ও দলের লোকজন মানুষের কন্ঠরোধ করতে চাইছে। এভাবে যদি তৃণমূল নেত্রী রাজ্য শাসন করতে চান, তাহলে বলা যেতে পারে যে এই অবস্থা খুব বেশিদিন রাজ্যের মানুষ মেনে নেবেন না। এর প্রতিকারে মানুষ পথে নেমে পড়লে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু সামলাতে পারবেন না। 

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সি পি আই নেতা কার্তিক দাস, আর এস পি নেতা শঙ্কর সরকার, ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা জয়ন্ত রায়, আর সি পি আই নেতা অসীম ঘোষ, মার্কসবাদী ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা শ্যামল কর্মকার, ডব্লিউ বি এস পি নেতা অসিত সাহা প্রমুখ।

No comments:

Post a Comment