(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Thursday, April 11, 2013

PRESIDENCY UNIVERSITY ATTACKED BY TMC GOONS


মৌনতায় মুখর ধিক্কার প্রেসিডেন্সির

নিজস্ব প্রতিনিধি, গণশক্তি

কলকাতা, ১১ই এপ্রিলরাজ্যের অন্যতম সামনের সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তৃণমূল দুষ্কৃতীদের হামলায় নিন্দার ঝড় উঠলো সর্বত্রতৃণমূলের কাউন্সিলরের নেতৃত্বে বুধবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ও বহিরাগত দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব চলেছে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়েঐতিহ্যশালী বেকার ল্যাবরেটরিতে ভাঙচুর করা হয়েছেবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশকে বিষিয়ে তোলা হয়েছেরাজ্যের অন্যতম একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর তৃণমূলের এই হামলার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষঘটনার ধিক্কার জানাতে বৃহস্পতিবার দীর্ঘ মিছিলে পা মিলিয়েছেন প্রেসিডেন্সির প্রাক্তনী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক, আধিকারিক সহ বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরাপ্রেসিডেন্সির তাণ্ডবের ঘটনার নিন্দা করে আক্রমণের সঙ্গে যুক্ত ব্যাক্তিদের ‘‘ক্রিমিনাল’’ বলে আখ্যা দিয়েছেন রাজ্যপালও

বহিরাগত দুষ্কৃতীদের নিয়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ প্রেসিডেন্সিতে ঢুকে যে নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছে তার প্রতিবাদে এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে রানী রাসমণি রোড পর্যন্ত একটি ধিক্কার মিছিল বের হয়এই মিছিল ছিলো মৌনগতকালের আক্রমণের দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এদিন সকাল থেকেই পড়ুয়ারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বিক্ষোভে শামিল হনমুখে কালো কাপড় পরে ধিক্কারও জানান পড়ুয়ারাপড়ুয়াদের দাবির সঙ্গে সহমত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মালবিকা সরকারও সেই বিক্ষোভে অংশ নেনযা সত্যিই নজিরবিহীনএরপর দুপুরের দিকে হয় এক দীর্ঘ মিছিলসেই মিছিলের শুরুতে প্রেসিডেন্সির প্রাক্তনীরা যেমন ছিলেন তেমন ছিলেন ডিন অব স্টুডেন্ট, কর্মরত অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, শিক্ষাকর্মী, ছাত্র-ছাত্রী এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাওপুলিসের উপস্থিতিতে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢুকে যেভাবে বহিরাগত দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়েছে তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকেই নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেনএই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের রাস্তা পেতে এদিন মিছিল থেকে এক প্রতিনিধিদল রাজ্যপালের কাছে দেখা করতে যানরাজ্যপাল না থাকায় তাঁর অফিসে প্রেসিডেন্সির নিরাপত্তা সহ একগুচ্ছ দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেন প্রতিনিধিরা

প্রেসিডেন্সির আক্রমণের প্রেক্ষিতে কলকাতায় সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের উত্তরে ঘটনার নিন্দা করে রাজ্যপাল এম কে নারায়ণন বলেছেন, ‘‘তাণ্ডবের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দুষ্কৃতী হিসাবে গণ্য করা উচিত’’ এদিকে আক্রমণকারীরা চিহ্নিত হয়ে গেলেও প্রেসিডেন্সির ঘটনার পেছনে চক্রান্তের আঁচ দেখছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুএদিন সাংবাদিকদের কাছে অবশ্য এই ঘটনার নিন্দা করেছেন শিক্ষামন্ত্রীএছাড়াও তিনি বলেছেন, ‘‘দিল্লির ঘটনাকে চাপা দিতেই সুপরিকল্পিতভাবে সি পি এম ও এস এফ আই এই ঘটনা ঘটিয়েছে’’ এদিকে গতকালের ঘটনায় ধ্বস্ত প্রেসিডেন্সির বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় পদক্ষেপ জানতে চেয়ে এদিন রাজ্যপালকে চিঠি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মালবিকা সরকাররাজ্যপালকে দেওয়া চিঠির বয়ান সম্পর্কে উপাচার্য পরে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘‘গতকালের ঘটনার বিস্তারিত লিখে রাজ্যপালকে চিঠি দিয়েছিপুলিসের নিষ্ক্রিয়তা, তৃণমূলের পতাকা নিয়ে বহিরাগতদের আক্রমণ, ল্যাবরেটরি ভাঙা, পড়ুয়া, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর সমস্ত ঘটনাই লিখে রাজ্যপালকে জানিয়েছিআচার্য হিসাবে তাঁর কাছে জানতে চেয়েছি, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের করণীয় পদক্ষেপ কী হবে’’

তৃণমূলের কাউন্সিলর ও দলের ছাত্র সংগঠনের একাধিক নেতার উপস্থিতিতে গতকাল প্রেসিডেন্সিতে যে হামলা হয়েছে তা সামনে চলে আসতেই এদিন শিক্ষামন্ত্রী সি পি এম ও এস এফ আই-এর চক্রান্ত’-কে সামনে এনেছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলপাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ক্রমশ সামনে চলে আসায় শাসকদলের মনোভাব মরিয়া হয়ে উঠেছেপ্রেসিডেন্সির মতো রাজ্যের আর এক নামী বিশ্ববিদ্যালয় যাদবপুরেও শাসকদলের ছাত্র সংগঠন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কোনো অস্তিত্ব নেইএমনকি এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের হয়ে একজন পড়ুয়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজি হয়নিনানাভাবে চেষ্টা করেও এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের মধ্যে কোনো ধরনের দাগ রাখতে পারছে না তৃণমূলপড়ুয়াদের মধ্যে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও জোর করে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ দখল করেছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদতাই সেই কায়দায় প্রেসিডেন্সিতেও পা রাখার ছক হিসাবে স্থানীয় কাউন্সিলরের নেতৃত্বে বহিরাগত দুষ্কৃতীদের নিয়ে হামলা করেছে তৃণমূল

এদিনের মিছিলে হাঁটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত অধ্যাপক-অধ্যাপিকারা জানিয়েছেন, ‘‘বহিরাগত লুম্পেনরা গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢুকে যে তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐহিত্যকে কালিমালিপ্ত করেছেজগদীশচন্দ্র বসু, প্রফুল্লচন্দ্র রায়, প্রশান্তচন্দ্র মহলনাবিশ, মেঘনাদ সাহার মতো বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের কর্মক্ষেত্র বেকার ল্যাবরেটরিকে ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়েছেপ্রথিতযশা এই বিজ্ঞানীরাই নয়, দেশ-বিদেশের নামী বিজ্ঞানীদের অতি পরিচিত এবং গবেষণার পীঠস্থান এই বেকার ল্যাবরেটরিকে ভেঙে বিজ্ঞান সাধনাকে অপমান করেছে দুষ্কৃতীরাঅবিলম্বে দোষী ব্যাক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়া হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা বেড়েই চলবে’’

এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর এ ধরনের আক্রমণে সরব হয়েছে সমাজের সর্বক্ষেত্রের মানুষনিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি সহ ৮টি বামপন্থী শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের সংগঠন ঘটনার নিন্দা করে প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘‘রাজ্যের আইন শৃঙ্খলার দায়িত্বপ্রাপ্ত শাসকদলের দুষ্কৃতীদের দ্বারা বারেবারে আক্রমণের শিকার হচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানপ্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষাকোনো শিক্ষাঙ্গনই বাদ যাচ্ছে না তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের নিশানা থেকেশিক্ষক-শিক্ষিকা, পড়ুয়া-অভিভাবক কেউই বাদ যাচ্ছে না তাদের আক্রমণ থেকেযেভাবে পরিকল্পিত আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছে তাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা’’ গতকালের প্রেসিডেন্সির ঘটনার নিন্দা করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী যুক্ত সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকেওসংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘‘দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও উত্তরবঙ্গে সিংহভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃণমূলের তাণ্ডব বেড়েই চলেছেবিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক-অধ্যাপিকারা নিগৃহীত হচ্ছেন, আক্রমণ শিকার হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষাকর্মীও’’

No comments:

Post a Comment