(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Thursday, April 11, 2013

SUDIPTA GUPTA, SFI LEADER, BECOMES A MARTYER


মন্ত্রীদের মিথ্যাভাষণের জবাব দিলো এস এফ আই দিল্লির ঘটনার দোহাই দিয়ে 
সুদীপ্তর মৃত্যু থেকে দৃষ্টি ঘোরানো যাবে না|

নিজস্ব প্রতিনিধি,গণশক্তি

নয়াদিল্লি, ১১ই এপ্রিল— যোজনা ভবনের ঘটনা অবাঞ্ছিত। নিন্দাও করা হয়েছে তার। কিন্তু, সেই ঘটনার দোহাই দিয়ে সুদীপ্ত গুপ্তর মৃত্যুতে নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি আড়াল করা যাবে না। আগামী ২রা মে, পুলিসী হেফাজতে ছাত্র নেতা সুদীপ্ত গুপ্তর মৃত্যুর ঠিক এক মাসের মাথায় সারা ভারতে কর্মসূচী পালন করবে এস এফ আই। 

বৃহস্পতিবার দিল্লিতে স্পষ্ট ভাষায় এস এফ আই’র ঘোষণা, দৃষ্টি ঘোরানোর কৌশল নিয়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু, অগণতান্ত্রিক এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই ঘটনার তদন্তের যুক্তিসঙ্গত দাবি থেকে সরে আসা হবে না কোনোমতেই। এদিন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বিবৃতিতে ওই দিনের ঘটনা নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রীদের মিথ্যাভাষণের কড়া নিন্দা করা হয়েছে। 

এদিন দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে এস এফ আই সাধারণ সম্পাদক ঋতব্রত ব্যানার্জি জোরের সঙ্গে বলেছেন, রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি এবং সংবাদমাধ্যমের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং অসত্য। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি নিজে অভিযোগ জানিয়েছেন, ওইদিন যোজনা ভবনের সামনে ঋতব্রত ব্যানার্জি তাঁকে নিগ্রহ করে। ছাত্র আন্দোলনে মস্তিষ্ক বিবশ হয় এমন কিছু সংবাদমাধ্যমও একই সুরে প্রচার চালাচ্ছে। এদিন এস এফ আই’র সাধারণ সম্পাদক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছেন, বহু সংবাদমাধ্যম সেদিন ছবি তুলেছে। তাদের কাছে ফুটেজ আছে। আমি এবং এস এফ আই সদস্যরা স্লোগান দিয়েছি। বিক্ষোভ দেখিয়েছি। গণতন্ত্রে সেই অধিকার রয়েছে। কিন্তু, যদি কেউ দেখাতে পারেন আমি কোনো মন্ত্রীকে নিগ্রহ করেছি তা’হলে হাসিমুখে জেলে যাবো। 

ওইদিনের ঘটনা ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে বামপন্থী দল এবং বিভিন্ন গণ-সংগঠনের অফিসে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ চলছে তার তীব্র নিন্দা করেছে এস এফ আই। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেকার ল্যাবরেটরিতে তৃণমূলের হামলায় ধিক্কার জানানো হয়েছে। 

এদিন এস এফ আই নেতৃবৃন্দ ব্যাখ্যা করে দেখিয়েছেন, যোজনা ভবনের সামনে বিক্ষোভের কর্মসূচী কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। গত ২রা এপ্রিল শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিসী হেফাজতে সুদীপ্ত গুপ্তর মৃত্যুর পর থেকে নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে এস এফ আই। এস এফ আই বলেছে, ওই নিষ্ঠুর মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছে। মানুষ নেমে এসেছেন রাস্তায়। সেই প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই গত মঙ্গলবার যোজনা ভবনের সামনে আরো কয়েকটি সংগঠনের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর কর্মসূচী নেয় এস এফ আই। ওইদিন যোজনা কমিশনে বৈঠক ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অমিত মিত্র, সুব্রত মুখার্জি এবং ফিরহাদ হাকিম। ঘটনার বিবরণ দিয়ে এস এফ আই বলেছে, পুলিসের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবেই বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছিল অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত দাবিতে। দুঃখজনকভাবে পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রকে ঘিরে অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এস এফ আই এই কাজের নিন্দা করেছে। এই কাজ অনুমোদন করছে না। 

সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নে ব্যানার্জি বলেন, এস এফ আই’র পক্ষ থেকে বলতে পারি আমরা কোনো মন্ত্রীকে নিগ্রহ করিনি। 

প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে বেপরোয়া ভাঙচুর প্রসঙ্গে ব্যানার্জি বলেন, ১৯১৩সালে বেকার ল্যাবরেটরি তৈরি করেছিলেন আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু। নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী সি ভি রমন এই ল্যাবরেটরিতে গবেষণা করেছেন। এই বছরের গোড়ায় পুনর্গঠিত ল্যাবরেটরির উদ্বোধন করেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এ পি জে আব্দুল কালাম। সেখানেই তছনছ করেছে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। আহত হয়েছে ইতিহাসে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম ছাত্রও। জাতীয় স্তরের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের তিনি জানিয়ে দেন, কেবল এস এফ আই নয়। অপর ছাত্র সংগঠন আই সি-ও এদিন প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়েছে। অংশ নিয়েছে সব অংশের ছাত্রছাত্রীরা। 

ছাত্র নেতৃবৃন্দ জানান, ২রা মে স্মরণ করা হবে শহীদ সুদীপ্ত গুপ্তকে। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন সংগঠনের সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক শতরূপ ঘোষ এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির একাধিক সদস্য।


No comments:

Post a Comment