(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Sunday, April 28, 2013

SUPREME COURT OF INDIA CAUTIONS AGAINST CHIT FUNDS


অসাধু ব্যবসার রমরমা, সেবি-কে দায়িত্ব সম্পর্কে সতর্ক করলো সুপ্রিম কোর্ট|

নিজস্ব প্রতিনিধি,গণশক্তি

নয়াদিল্লি, ২৭শে এপ্রিল— অসাধু পদ্ধতির ব্যবসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার ক্ষেত্রে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড (সেবি)-কে আর কঠোর হতে নির্দেশ দিলো সুপ্রিম কোর্ট। আর্থিক ও মূলধনী বাজারে যথেষ্ট পরিমাণ প্রতারণা ও অসাধু কার্যকলাপ চলছে বলে আক্ষেপ করে দেশের শীর্ষ আদালত বলেছে বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে সেবিকেই এ ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় সেবি তার কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হচ্ছে বলে ধরে নিতে হবে। একটি সংস্থার মামলায় সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ এমন সময়ে এসেছে যখন চিট ফান্ডের প্রতারণার বড় কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে। প্রত্যক্ষভাবে সারদা গোষ্ঠী বা অন্য কোনো সংস্থার নাম না করলেও শীর্ষ আদালত বলেছে, আমানতকারী, বিনিয়োগকারীদের ঠকানোর ব্যবসা রমরমিয়ে চলছে। মূলধনী বাজারে প্রতারণা, বেনিয়মও হরবখত ঘটে চলেছে। বিনিয়োগকারীর পয়সায় কোম্পানি বেড়ে উঠছে অথচ বিনিয়োগকারীরা অসংগঠিত বলে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এঁদের সুরক্ষার দায়িত্ব সেবি’র। 

সুপ্রিম কোর্ট তালিকাভুক্ত কোম্পানি সম্পর্কেই এই মন্তব্য করলেও সেবির ভূমিকায় অসন্তোষই প্রতিফলিত হয়েছে। বাজারে অসাধু কাজ একটি অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে শীর্ষ আদালতের মন্তব্য দেশের আর্থিক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির বেহাল অবস্থারই সমালোচনা। সেবি সম্পর্কে এই সমালোচনা অবশ্য বিভিন্ন মহল থেকেই উঠছে। সারদা কেলেঙ্কারিসহ চিট ফান্ডের অসাধু ব্যবসায়ে মাঝে মাঝে তালিকা তৈরি করা, কালেভদ্রে কোনো কোম্পানিকে নোটিস পাঠানো ছাড়া সেবি কার্যকর কোনো ব্যবস্থাই নিতে পারছে না। সেবি’র কাছে কোম্পানিগুলির সম্পর্কে অভিযোগ পাঠানো হলেও কালক্ষেপ করা হয় বলে অভিযোগ। 

শনিবার প্রধানমন্ত্রীও সারদা কেলেঙ্কারির পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন, ‘বিপুল পরিমাণ লাভের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনুমোদন ছাড়াই আমানত সংগ্রহের এই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এই একটি বাক্যই খরচ করেছেন মনমোহন সিং। বহু দিন ধরেই এই কারবার চলছে, উদারনীতির সময়কালে তার রমরমা বেড়েছে। তাঁর সরকার এতোদিন কী ব্যবস্থা নিয়েছে, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি কী ভূমিকা পালন করেছে তা নিয়ে নীরবই ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। 

ঘুম ভেঙেছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকেরও। তাদের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে থাকায় শনিবার অর্থমন্ত্রক জানিয়েছে সেবি, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, আয়কর দপ্তর ও এনফোর্সমেন্ট ‘পনজি’ প্রকল্প এবং চিট ফান্ডগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ শুরু করেছে। সারদা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বেআইনী অর্থ লেনদেন মোকাবিলা আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কর্পোরেট মন্ত্রকও এই গোষ্ঠীর বিভিন্ন আইন লঙ্ঘনের ঘটনা খতিয়ে দেখছে। সারদা গোষ্ঠীসহ অনেক গোষ্ঠীই বেআইনীভাবে টাকা সংগ্রহ করেছে, এই টাকা অন্যত্র সরিয়েছে এবং স্থানীয় এজেন্ট নিয়োগ করে অর্থ সংগ্রহ করেছে বলে অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে। এই সব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থমন্ত্রক জানিয়েছে ২০১২-র জুলাইয়ে সব রাজ্যকে চিঠি লিখে আর্থিক পরিষেবা দপ্তর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধির কথা বলেছিল। ৩১টি কোম্পানির নথি খতিয়ে দেখার জন্য কোম্পানি বিষয়ক মন্ত্রক নির্দেশ দিয়েছিল। ২০১২-র জুলাই ও নভেম্বরে সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিসকে কয়েকটি বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে ৪২টি কোম্পানিকে সমস্ত তথ্য জমা দেবার জন্য নোটিস জারি করা হয়েছিল। অর্থমন্ত্রকের এই বিবৃতি থেকেও স্পষ্ট তদন্তের বিশেষ কোনো ফলাফল মেলেনি। দীর্ঘসূত্রতার কারণে সংস্থাগুলি রেহাই পেয়ে যাচ্ছে। 

অর্থমন্ত্রক জানিয়েছে সারদা গোষ্ঠীকে ২৩শে এপ্রিল সেবি নির্দেশ দিয়েছে তিন মাসের মধ্যে আমানতকারীদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকা ফেরত দিতে হবে। অন্যথায় কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। আসাম পুলিসের কাছ থেকে খবর পেয়ে এনফোর্সমেন্ট দপ্তর ৪টি মামলা রুজু করেছে ২৫শে এপ্রিল। সারদা গোষ্ঠীর গোটা কারবারই ধসে পড়ার পরে এ জাতীয় ব্যবস্থা নেওয়া ফলপ্রসূ কিনা, সে প্রশ্নও উঠছে।

No comments:

Post a Comment