(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Thursday, April 11, 2013

WEST BENGAL GOVERNOR FOMENTS VIOLENCE IN WEST BENGAL


এবার বলুন রাজ্যপাল

(সম্পাদকীয়, গণশক্তি)

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল এম কে নারায়ণন তাঁর আবেদনের যোগ্য জবাব পেয়েছেন। তিনি শাসক দলের কাছে আবেগকে সংযত করার আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই আবেদনের কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পা‍‌সে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে রাজ্যপালকে প্রকৃত প্রত্যুত্তর দিয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বাহিনী। তৃণমূল ছাত্র পরিষদ লাঠি, বল্লম ও দলীয় পতাকা নিয়ে তালা ভেঙে ঢুকে পড়ে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে। তৃণমূল বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মারধর শুরু করে। ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে এই গুন্ডাবাহিনী। এখানেই শেষ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাব্দি প্রাচীন পদার্থবিদ্যার গবেষণাগারটি ভাঙতে শুরু করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। এই গবেষণাগারে কাজ করেছেন জগদীশচন্দ্র বসু, প্রফুল্লচন্দ্র রায় সহ বিশিষ্ট বিজ্ঞানীরা। তাতে কি এসে যায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের? তারা তো মমতা ব্যানার্জির দেওয়া আবেগে ভরপুর হয়ে রাজ্যজুড়ে হামলায় নেমেছে। ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাজ্যপাল কি জানেন, টি এম সি পি’র এই হামলায় পুলিস ছিলো সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বারে বারে পুলিসের সাহায্য চান। পুলিস জানায় তাদের কাছে অর্ডার নেই। আচার্য রাজ্যপাল তো প্রাক্তন পুলিস কর্তা। তিনি কি বুঝতে পারছেন শাসক দলের সর্বোচ্চ স্তরের অর্ডার ছাড়া টি এম সি পি’র হামলা আটকানো পুলিসের পক্ষে সম্ভব নয়? আচার্য রাজ্যপাল পারবেন কি ঐহিত্যবাহী প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর তৃণমূল ছাত্র পরিষদের হামলার জন্য মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রীকে দিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়াতে? রাজ্যপাল এখনও প্রেসিডেন্সিতে হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে পারেননি। আচার্য কি জানেন না, প্রেসি‍ডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মালবিকা সরকারের বক্তব্য? উপাচার্য বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের কোন ধরনের প্ররোচনা ছাড়াই তৃণমূল ছাত্র পরিষদ হামলা চালিয়েছে। এই হামলাকারীদের নেতা নেত্রীদের উদ্দেশ্যে কি বলবেন আচার্য-রাজ্যপাল? বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রবীর দাশগুপ্ত অভিযোগ করেছেন, বারবার পুলিসকে বলা সত্ত্বেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। পুলিসের ওপর আর আমরা ভরসা রাখতে পারছি না। রাজ্যপালের কাছে আমাদের সবিনয় প্রশ্ন, তিনি কি রাজ্যের পুলিস এবং পুলিসমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ওপর ভরসা রাখতে পারছেন?

রাজ্যপাল তার পদাধিকার বলে সমস্ত রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য। ফলে রাজ্যের অন্যান্য প্রশাসনিক দায়িত্বের বাইরে শিক্ষার ক্যাম্পাসের ক্ষেত্রে রাজ্যপালের অতিরিক্ত দায়িত্ব রয়েছে। এরাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে শুরু হয়ে গেছে তাণ্ডব। রায়গঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ নিগৃহীত হয়েছেন বহিরাগত তৃণমূলের কর্মীদের হাতে। টেলিভিশনের পর্দায় সেই নিগ্রহের ছবি দেখা গেলেও পুলিস দীর্ঘক্ষণ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। কারণ মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, এসব ছেলেমানুষি, বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ফলে জামিনযোগ্য অপরাধে কয়েকজন তৃণমূলীকে গ্রেপ্তার করে কিছুক্ষণের মধ্যে ছেড়ে দেয় পুলিস। রায়গঞ্জ কলেজ থেকে শুরু আর আপাততঃ শেষ প্রেসিডেন্সিতে। শুধুমাত্র হামলাই নয় অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা ব্যবস্থার গণতন্ত্রীকরণকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা শুরু করেছে বর্তমান তৃণমূল সরকার। সেই কাজের সঙ্গী হয়েছেন আচার্য-রাজ্যপাল। নির্বাচনের পরিবর্তে দল পসন্দ মনোনয়নের মাধ্যমে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনাই এই সরকারের লক্ষ্য। এই পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে ৬ মাসের জন্য ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিত করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। এই অন্যায় নির্দেশের প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে রাজ্যের ছাত্র সমাজ। সেই মিছিলেই পথ হেঁটেছিলো সুদীপ্ত গুপ্ত। পুলিস হেফাজতে সেই সুদীপ্তের কণ্ঠরোধ করে তাই ক্যাম্পাসের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চেয়েছে রাজ্য সরকার। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের আক্রমণের মধ্য দিয়ে। রাজ্যপাল একবার ভেবে দেখুন কোন লুম্পেন বাহিনীর আবেগকে তিনি সংযত করতে চাইছেন।


No comments:

Post a Comment